Susmita Das: মাঝ আকাশে ভয়াবহ হামলার পরও যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। শুক্রবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কলে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থাতেও কী ভাবে ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তা জানান ক্যাপ্টেন। পাশাপাশি বলেন, সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তিনি বার বার ‘হনুমান চালিশা’ পাঠ করছিলেন।
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে বুধবার এই ঘটনা ঘটে। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ও আট জন ক্রু সদস্য ছিলেন। অভিযোগ, বিমানের ওমানি সহ-পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিতকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন। হামলার পর বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। গুরুতর আহত স্মিত মেঝেতে পড়ে গেলেও বুঝতে পারেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপদ হতে পারে। শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। এরপর যাত্রী ও অন্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
মোদীর সঙ্গে কথোপকথনে স্মিত জানান, তিনি ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে বিমান চালাচ্ছেন এবং ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন। হামলার সময় নিজের জীবন নিয়ে লড়াই করলেও বিমানের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, দরজা খুলতে পারাটাই ছিল সেই মুহূর্তে তাঁর ‘শেষ চেষ্টা’। একই সঙ্গে জানান, কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করেন এবং ওই সময়ও সেটিই তাঁকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে সাহায্য করছিল।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ক্যাপ্টেনের সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য তাঁর প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন স্মিত ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। ঘটনার পিছনে হামলাকারীর উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য অন্য কোনও যোগ ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।
রক্তাক্ত ককপিট থেকে দরজা খুলে বাঁচালেন শতাধিক প্রাণ, বিশ্বাস ও সাহসে লড়াই ক্যাপ্টেন স্মিতের

Recent Comments