back to top
Tuesday, October 13, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeসাহিত্য সংস্কৃতিশারদীয় নবরাত্রির তৃতীয় দিনে দেবী চন্দ্রঘণ্টার আরাধনা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক দেবী

শারদীয় নবরাত্রির তৃতীয় দিনে দেবী চন্দ্রঘণ্টার আরাধনা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক দেবী

Sharanya Ghosh: নবরাত্রির পবিত্র তৃতীয়া তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় দেবী দুর্গার তৃতীয় রূপ, দেবী চন্দ্রঘণ্টার আরাধনা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী চন্দ্রঘণ্টা সাহস, শক্তি, শান্তি ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক। তাঁর আরাধনার মাধ্যমে জীবনের ভয়, বাধা ও নেতিবাচকতা দূর হয় এবং মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটে।

কে এই দেবী চন্দ্রঘণ্টা?

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার নয়টি রূপের মধ্যে তৃতীয় রূপ হলেন দেবী চন্দ্রঘণ্টা। তাঁর কপালে ঘণ্টার আকৃতির অর্ধচন্দ্র শোভা পায় বলেই তাঁর নাম চন্দ্রঘণ্টা। দেবীর এই রূপ একদিকে যেমন শান্তি ও কল্যাণের প্রতীক, অন্যদিকে তেমনই তিনি অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক।

ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, দেবী চন্দ্রঘণ্টার দশটি হাত রয়েছে এবং তাঁর হাতে বিভিন্ন অস্ত্র ও পবিত্র প্রতীক দেখা যায়। তিনি সিংহ বা বাঘের পিঠে আসীন। তাঁর এই রূপ ভক্তদের মনে নির্ভীকতা, আত্মরক্ষা এবং ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

কেন তৃতীয়া তিথিতে হয় তাঁর পুজো?

নবরাত্রির প্রতিটি দিন দেবী দুর্গার একটি বিশেষ রূপের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। সেই ধারায় তৃতীয় দিনে দেবী চন্দ্রঘণ্টার পুজো করা হয়। এই পুজোর মূল তাৎপর্য হল মনের ভয়কে জয় করা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা এবং জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার শক্তি অর্জন করা।

ভক্তরা বিশ্বাস করেন, নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে দেবীর আরাধনা করলে পরিবারে শান্তি, জীবনে সাহস এবং মানসিক স্থিরতা লাভ করা যায়। বিশেষ করে সংকটের সময়ে দেবী চন্দ্রঘণ্টার উপাসনা ভক্তদের কাছে সাহস ও আশ্রয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পুজোর নিয়ম ও ধর্মীয় তাৎপর্য

নবরাত্রির তৃতীয় দিনে ভক্তরা সকালে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরেন এবং দেবীর সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো করেন। ফুল, ধূপ, ফল ও অন্যান্য পুজোর সামগ্রী দিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পুজোর আচার-অনুষ্ঠানে কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

আরো পড়ুন:  বিজয় গুপ্তের ফুল্লশ্রী: একটি বিলুপ্ত উৎসবের কাহিনি

দেবী চন্দ্রঘণ্টার পুজোর সঙ্গে সাহস, সংযম, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক চিন্তার বার্তাও জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর আরাধনা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, সত্যের পথে চলতে এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের মনোবল অটুট রাখতে অনুপ্রাণিত করে।

দেবী চন্দ্রঘণ্টার আরাধনায় বিশেষ বার্তা

দেবী চন্দ্রঘণ্টার রূপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত শক্তি শুধু বাহুবলে নয়, মানসিক দৃঢ়তা ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার মধ্যেও নিহিত। নবরাত্রির তৃতীয় দিনের এই পুজো তাই শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সাহস, শান্তি ও শুভশক্তির জাগরণেরও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

ভক্তদের প্রার্থনা, দেবী চন্দ্রঘণ্টার আশীর্বাদে সকলের জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক এবং অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটুক।

দশভুজা দেবী চন্দ্রঘণ্টা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক

দেবী চন্দ্রঘণ্টা দেবী দুর্গার তৃতীয় রূপ। তিনি দশভুজা—তাঁর দশটি হাতে শোভা পায় বিভিন্ন অস্ত্র ও পবিত্র প্রতীক। সিংহ বা বাঘের পিঠে আসীন দেবীর এই রূপ সাহস, বীরত্ব ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাঁর কপালে ঘণ্টার আকৃতির অর্ধচন্দ্র শোভা পায়, যা থেকেই তাঁর নাম চন্দ্রঘণ্টা। নবরাত্রির তৃতীয় তিথিতে ভক্তরা তাঁর আরাধনা করে জীবনে শান্তি, সাহস ও শক্তি কামনা করেন।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments