Susmita Das: রবিবারের সংঘর্ষের পর সোমবার ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এ। ক্যাম্পাসে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রবিবার পড়ুয়া এবং অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (ABGP)-এর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তার পর দিন ঘটনার প্রতিবাদে পড়ুয়াদের একাংশ মৌন প্রতিবাদের কর্মসূচি নেয়। রবিবারের ঘটনায় একাধিক পড়ুয়া ও শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত SRFTI-এর মূল অডিটোরিয়ামে ABGP-র একটি অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে। পড়ুয়াদের একাংশ ক্যাম্পাসে বাইরের সংগঠনের অনুষ্ঠান এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে আপত্তি জানায়। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের উপর হামলা করা হয় এবং কয়েক জনকে ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’, ‘আরবান নকশাল’ ও ‘টেররিস্ট’ বলে কটূক্তি করা হয়েছিল। অন্য দিকে, ABGP-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পড়ুয়ারাই তাঁদের অনুষ্ঠান ব্যাহত করে এবং সদস্যদের উপর হামলা চালায়। দুই পক্ষের অভিযোগই তদন্তসাপেক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় ছিল। সোমবারও ক্যাম্পাসে প্রতিবাদের আবহ দেখা যায়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছে-একটি ABGP-র তরফে, একটি পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং একটি পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ঘটনার জন্য বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্তদের দায়ী করেছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় কারা সরাসরি দায়ী, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরানো এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখাই এখন প্রধান বিষয়।

Recent Comments