অশোক সেনগুপ্ত
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে চড়তে পারবেন। প্রশাসনিক প্রথম বৈঠকেই সেই আশ্বাসপূরণের অঙ্গীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাতে মসৃণভাবে গোটা বিষয়টি এগোয়, বৃহস্পতিবার সে কারণে ৮ দফা নির্দেশিকা দিল রাজ্য পরিবহণ নিগম।
সিএসটিসি, ডব্লুবিএসটিসি এবং সিটিসি— এই তিন সংস্থার অর্থাৎ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (ডব্লুবিটিসি) সব বাসকে এই নির্দেশিকার আওতায় আনা হয়েছে।
নির্দেশিকায় লেখা হয়েছে, ১) ১ জুন থেকে দু সপ্তাহ ট্রাফিক শাখা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনও কর্মী-অফিসার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ছুটি নিতে পারবেন না। তবে, আগে কারও মেডিক্যাল/আর্নড লিভ মঞ্জুর করা থাকলে, বা গুরুতর অসুস্থ থাকলে তা মান্যতা দেওয়া হবে। ২) মেকানিক, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার এবং চালক, কন্ডাক্টরদের ৮ ঘন্টা কাজ বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনে বাড়তি সময় কাজ করতে হতে পারে।
৩) মহিলারা যাতে যথেষ্ঠ পরিষেবা পান সে কারণে প্রথম দু’সপ্তাহ প্রথম ও দ্বিতীয় শিফটে কলকাতা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে সর্বোচ্চ সংখ্যায় বাস বার করতে হবে।
৪) কোনও বাস খারাপ হয়ে গেলে কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পাওয়ামাত্র দ্রুততার সঙ্গে ব্রেক ডাউন ভ্যানকে ঘটনাস্থলে যেতে হবে। এর জন্য রাখতে হবে আগাম প্রস্তুতি।
৫) মহিলা যাত্রীদের চাহিদা-পূরণের ডিপো ম্যানেজার ও ভারপ্রাপ্তরা কর্মীদের বাড়তি মোতায়েনে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।
৬) ডিপো ম্যানেজাররা যে ‘পুল কার’ ব্যবহার করেন, সেগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে লাগানো হবে।
৭) সিএসটিসি, সিটিও এবং সিটিসি-র কন্ট্রোল রুম সকাল ৬টা থেকে পুরো পরিস্থিতি নজরে রাখবে। কোন, কোন নম্বর থেকে এই তদারকি করা হবে, সেটিও জানানো হয়েছে।
৮) প্রথম শিফটের বাস ডিপো থেকে যাতে ভোর পাঁচটায় বার হয়, তার ব্যবস্থা করতেও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।
এর আগে, বুধবার নবান্নে এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের সরকারি বাসে নিঃশুল্ক পরিষেবার বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার, ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের এই পরিষেবা চালু হচ্ছে।
তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে সব মহিলাদের নিঃশুল্ক পরিষেবা দেওয়া হলেও পরে কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।মুখ্যমন্ত্রীর মতে এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো ওই প্রকল্পেও মহিলা ব্যাতীত অন্য কেউ অসদোপায়ে এর সুযোগ না নিতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে।
শুভেন্দুবাবু অভিযোগ করেন যে, এসআইআরের পরে ভোটার তালিকা থেকে যে সব মহিলার নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা এসআইআর ট্রাইব্যুনালে বা সিএএতে আবেদন না করলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছেন। নাম ধরে উদাহরণ দিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন যে কীভাবে এক পুরুষ মহিলাদের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন। ফ্রি বাস পরিষেবা যাতে এই অসৎ উপায় অবলম্বন করে কেউ না নিতে পারেন তার জন্যই কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।


Recent Comments