নিজস্ব সংবাদদাতা : এক রহস্যঘেরা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন প্রাক্তন বিধায়কের স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি-র একটি পোস্ট সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। এরপরই বিজেপির প্রাক্তন নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করে প্রশ্নবোধক চিহ্ন-সহ একটি পোস্ট করেন। আর তাতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর গুঞ্জন।
দলীয় সূত্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিজেপি নেতা দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেবরাজ চক্রবর্তীকে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টিই এখন জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে হঠাৎ এমন খবর সামনে আসায় রাজনৈতিক অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকেই দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে বারবার সরব হয়েছিল বিজেপি। তোলাবাজি, বিরোধীদের উপর হামলা এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল একাধিক সভা ও প্রচারে। ফলে তাঁর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির খবরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এদিকে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও ক্রমশ সক্রিয় হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বোস। তদন্তে উঠে এসেছে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নামও। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিক ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিতে শুরু করেছে প্রশাসন।
আরজি কর কাণ্ড, তোলাবাজি রোধ, পশুহত্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ— একের পর এক বিষয়ে পদক্ষেপ করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বাধীন সরকার। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও বারবার সামনে আসছে রাজনৈতিক আলোচনায়।
এই পরিস্থিতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির খবর সামনে আসতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। যদিও সরকারি ভাবে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায়, পুরো বিষয়টির উপরেই রয়ে গেছে জল্পনার ঘন কুয়াশা।

Recent Comments