শুক্রবার ভরদুপুরে আচমকা কেঁপে উঠল পায়ের তলার মাটি। দুপুরের ব্যস্ততা ছাপিয়ে মুহূর্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ২২ মিনিট। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অনুভূত হল মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। প্রাণের ভয়ে বহুতল অফিস ও আবাসন ছেড়ে হুড়মুড়িয়ে রাস্তায় নেমে এলেন শয়ে শয়ে মানুষ।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.০। জানা গিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের খুলনা, যা কলকাতা থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত শহর টাকি থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এক নজরে ভূমিকম্পের খুঁটিনাটি:
- সময়: শুক্রবার, দুপুর ১টা ২২ মিনিট।
- মাত্রা: রিখটার স্কেলে ৫.০ (প্রাথমিক অনুমান)।
- উৎসস্থল: খুলনা, বাংলাদেশ।
- স্থায়িত্ব: কলকাতায় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ সেকেন্ড কম্পন অনুভূত হয়।
হঠাৎ করে মাটি কেঁপে ওঠায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তের বহুতল থেকে মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসেন। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বারবার কয়েক দফায় এই কম্পন টের পান শহরবাসী।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এই ভূকম্পনের জেরে মধ্য কলকাতার গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ এলাকার একটি পুরনো বাড়ি হেলে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। খবর পেয়েই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। তবে স্বস্তির খবর, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
শুধুমাত্র কলকাতা নয়, এদিন কাঁপুনি অনুভূত হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলোতেও। মেদিনীপুর শহর থেকে শুরু করে হাওড়া-হুগলির সর্বত্রই মানুষের মধ্যে এক চাপা ভয় ও শঙ্কা কাজ করেছে।
এদিন শুধু দক্ষিণবঙ্গই নয়, বেলা ১২টা নাগাদ সিকিমেও ২.৪ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই গত ৩রা ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে কলকাতাবাসী আরও একটি ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছিলেন। সেবার মায়ানমারে উৎপন্ন ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্পের জেরে কেঁপেছিল তিলোত্তমা। অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে বারবার এহেন কম্পনে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ দানা বাঁধছে।
