অশোক সেনগুপ্ত
শুক্রবার ভরদুপুরে কলকাতা-সহ রাজ্যের এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশের নানা স্থানে ভূমিকম্প হয়। কিন্তু কোথায় আতঙ্ক? সামাজিক মাধ্যম কাঁপল নিটোল মজায়। নেটনাগরিকদের অনেকে উপুর করে দিয়েছেন নিজেদের রঙ্গ-রসিকতার ডালি।
বিশিষ্ট শিশু-চিকিৎসক অরুণালোক ভট্টাচার্য লিখেছেন, “ভূমিকম্পের পোস্টে ফেসবুক কেঁপে উঠলো !😳” সামাজিক মাধ্যমে বিধানসভা ভবনের ছবি দিয়ে একটি ডিজিটাল মাধ্যমে বড় হরফে লেখা হয়, ‘কাঁপলো ইংরেজদের তৈরি বিধানসভা, বিধানসভা ছাড়লেন বিধায়করা’। রিয়া পাল প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “ইংরেজদের তৈরি বলে কি ভূমিকম্পে কাঁপবে না?” আর এক প্রতিক্রিয়ায় সুকোমল জানা লিখেছেন, “পাপ বেড়ে গেছে”।
ভূমিকম্পের প্রতিক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে রাজনীতি। বড় হরফে স্বাতী সেনাপতি লিখেছেন, “আজকের ভূমিকম্পে শুনলাম ১৪ তলার চেয়ার থেকে একজন পড়ে গেছে….”। সুজিত রায় লিখেছেন, “সব কাঁপলো, চোদ্দতলা কাঁপেনি”। “সৌমেন জানা লিখেছেন, “আজ রাতেই পোস্ট এলো বলে, আমি ভূমিকম্প থামিয়েছি নোবেল দে।”
সামাজিক মাধ্যমে এসেছে সরাসরি এসআইআর-এর কথাও। রাজনীতি ও অর্থনীতি-বিষয়ক বিশ্লেষক প্রতিমরঞ্জন বোস লিখেছেন, “ইলেকশনের আগেই কাঁপছে? #ভুমিকম্প”। অনিত দাশগুপ্ত লিখেছেন, “SIR এগোনো বের হয়নি। তার আগেই ভূমিকম্প!” অরিজিৎ সরকার লিখেছেন, “বলেছিলাম ২৮ তারিখের আগে একটা ভূমিকম্প হবে। মিলে গেল তো!” বিষ্ণু দাশগুপ্ত লিখেছেন, “আচ্ছা কাল বেরুবে ভোটার লিস্ট, তবে আজ কেন ভূমিকম্প হলো? তবে কি কাল হবে আফটার শক???☺️☺️☺️☺️”। মোনালিসা ব্যানার্জী রঙিন আলোর মাঝে দর্শণীয় সিঁড়ির ছবির ওপর লিখেছেন, “ভোটার লিস্ট বেরোনোর আগেই ভূমিকম্প সারা রাজ্যে”। কালো প্রেক্ষাপটে একই ব্যঙ্গবাক্য বিজেপি নেতা সজল ঘোষের পৃথক পোস্টে।

‘বেঙ্গলি ডাঙ্ক টেলস’ লিখেছে, “ভূমিকম্প হওয়াটাই স্বাভাবিক। গত ক’দিন যে হারে বিয়ে হল!” মৌসুমী লিখেছেন, “উফফফ আমি যে কি প্রচন্ড আবোদা কি আর বলবো। এই প্রবল ঝাক্বকুনিও টের পেলাম না! 🥴 খাবার দিয়ে সবে ফিরেছি, স্নান করছিলাম। বাইরে হইহই শুনছি, পরে শুনলাম প্রবল ঝাঁকুনি তাই সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে ভয়ে, অথচ আমি কিছুই বুঝিনি!”
কালো প্রেক্ষাপটের ওপর চিকিৎসক অভিজিৎ সর্বাধিকারী বড় হরফে লিখেছেন, “মাটিও এতো জালি কারবার দেখে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।” ইউটিউবার-কলমলেখক অরূপ কালী বড় হরফে লিখেছেন, “কলকাতা যত না কাঁপলো, তারচেয়ে ঢের বেশি ষ্টুডিও কাঁপিয়ে চলেছে নিউজ চ্যানেলের সঞ্চালকরা। ভূমিকম্প থেমেছে, ওদের চিৎকার চলছেই 😀”।
লেখিকা, চলচ্চিত্র পরিচালক বলে পরিচয় দেওয়া গার্গী মুখোপাধ্যায় লিখেছেন,“ ভূমিকম্পের মাত্রা যখন কমেডিয়ান রূপ নেয়, তখন বোঝা যায় আমি কার সঙ্গে থাকি। আমার বাড়িতে দুই লেজেন্ড বাস করেন, আমার মা এবং মেজোমা। আমার মা রান্নাঘর থেকে তাড়াহুড়ো করে বের হয়েছেন, হাতাটা না রেখেই তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেছেন হাতা🍲 সমেত, ভাত ঘরে বসিয়ে।🫕
অন্যদিকে, মেজোমা ভেবেছেন যে তার ঘরে ভূত ঢুকেছে, আলমারি ও খাট নাড়াতে ভেবেছেন যে ভূত এসে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে।
আমি ভাবি আমি আসলে কাদের সঙ্গে থাকি! কীভাবেই বা তারা পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন সত্যি সেটা দেখার মতো।। 🤭🫣”
তানিয়া ব্যানার্জী পাল পিছনে পাহাড়, প্রকৃতির ওপর বড় হরফে লিখেছেন, “প্রতি মাসে স্যালারি পাওয়ার মতো ভূমিকম্প পাচ্ছি!!!” সোনালি মুখার্জি লিখেছেন,“ভূমিকম্প বুঝে সঙ্গে সঙ্গে স্ট্যাটাস দিতে পারিনি, সমাজ কি আমায় মেনে নেবে!”🥹 দীপ্তস্য যশ লিখেছেন, “নাহ, আজ মেনেই নিলাম আমার কপালে ভূমিকম্প টের পাওয়া আর বিয়ে বাড়ির নেমনতন্ন পাওয়া নেই। আজকেও গাড়ি চালাচ্ছিলাম।পুরো দুনিয়া টের পেয়েছে ভূমিকম্প কিন্তু আমি পাই নাই।”
শুভপম সাহা লিখেছেন,“বাস্তবে বেসরকারি কর্মচারীরা কখনই ভূমিকম্প নিয়ে ভাবিত নয়। কারণ তারা সর্বক্ষণ থরথরিয়ে কাঁপছে…”। ব্রততী দত্ত লিখেছেন,“আমি কিন্তু সত্যিই টের পাইনি। এক বন্ধুর সাথে ফোনে কথা বলছিলাম। সে বলল ব্রততী ভূমিকম্প হলো। কী জোর! টের পেলি? আমি তো বুঝতেই পারলাম না। নাহ! সত্যিই আমার ওজন এতটাই বেড়েছে যে আমাকে নড়ানো এত সহজ কাজ নয়।”
১০ তলা বিল্ডিং এর ১ তলায় লাঞ্চ ব্রেক চলছিলো। ওরকম দুলিয়ে দিলো এরই মধ্যে। সবাই উত্তেজিত হয়ে উঠলাম, আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে উঠলাম। তবু কেউ খাবার ছেড়ে উঠলাম না। অমৃতা চৌধুরী লিখেছেন, “প্রমানিত হলো, আগে খাবার, তারপর সবকিছু।”
ছোট কথায়, ভূমিকম্প নিয়ে নানা ধরণের পোস্ট শুক্রবার ফেসবুকে মাত্রা পেল। এসব মন্তব্যে রয়েছে বাঙালির উন্মেষ আর সৃজনশীলতা।


Recent Comments