পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার SIR প্রক্রিয়ায় গঠিত ট্রাইবুনালের কাজের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। ট্রাইবুনালের কার্যকারিতা নিয়ে ক্রমাগত মামলা দায়ের হওয়ায় রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল। নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে আদালত রাজ্যকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
শুক্রবার হাই কোর্টে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানির সময় বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল ট্রাইবুনালের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রায় প্রতিদিন ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে তিন-চারটি করে মামলা দায়ের হওয়ায় ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলা প্রত্যেক নাগরিকের একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা বা প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
কী নিয়ে বিতর্ক?
ভোটার তালিকা সংশোধনের পর ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের তত্ত্বাবধানে ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল। অভিযোগ, এই ট্রাইবুনালে কাজ করতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা আবেদনকারীদের সশরীরে হাজিরা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করায় আদালত বিরক্ত। বিচারপতি পাল প্রশ্ন তুলেছেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ বারংবার এসে উপস্থিত হবেন কীভাবে? কেন সেখানে অনলাইন শুনানি বা ডিজিটাল ব্যবস্থার সুযোগ নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
নির্দেশ ও পরামর্শ:
রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদারকে আদালতের নির্দেশ, তিনি যেন বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত সংশোধনের পথ বের করেন। আদালত রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ট্রাইবুনালের এই কর্মপদ্ধতি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার এই জটিলতা কাটাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে বলেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের মতামত আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট:
গত অক্টোবর মাসে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত, নিখোঁজ, স্থানান্তরিত ও অনুপস্থিত— সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষের বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০ লক্ষাধিক নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ছিল। পরবর্তীতে কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর, বাদ পড়া ব্যক্তিরা ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই ট্রাইবুনালের মাধ্যমেই নাম পুনর্বহালের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সেই প্রক্রিয়ায় নিয়মিত মামলা ও অভিযোগের জেরে এখন গোটা বিষয়টিই হাই কোর্টের নজরদারিতে চলে এসেছে।


Recent Comments