নিজস্ব সংবাদদাতা: ক্রমাগত ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহণ খাতে বাড়তে থাকা খরচের জেরে ফের বাসভাড়া পুনর্বিবেচনার দাবি তুলল বেসরকারি বাস সংগঠন। রাজ্যের পরিবহণ দফতরের প্রধান সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে বর্তমান আর্থিক সঙ্কটের চিত্র তুলে ধরেছে সিটি সাবআরবান বাস সার্ভিস।
বাস সংগঠনের দাবি, শেষবার রাজ্যে বাসভাড়া সংশোধন করা হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেই সময় ডিজ়েলের দাম ছিল লিটারপ্রতি প্রায় ৬৮ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে ৯২ টাকারও বেশি হয়েছে। অর্থাৎ গত কয়েক বছরে জ্বালানির খরচ ব্যাপক হারে বাড়লেও বাসভাড়ায় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে প্রতিদিন বাস চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে দাবি সংগঠনের।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ডিজ়েল নয়— যন্ত্রাংশ, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা, কর্মচারীদের বেতন এবং বিভিন্ন আইনি খরচও অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহু বাসমালিক লোকসানের মুখে পড়ছেন। সংগঠনের আশঙ্কা, দ্রুত কোনও পদক্ষেপ না করা হলে রাস্তাঘাট থেকে আরও বেসরকারি বাস কমে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের উপরেও।
বাস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা জানান, সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই দীর্ঘদিন তুলনামূলক কম ভাড়ায় পরিষেবা দিয়ে আসছেন বাসমালিকেরা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিষেবা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই জনস্বার্থ এবং পরিবহণ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে দ্রুত ভাড়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে সরকারের কাছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ ও ২০২১ সালে বাসভাড়া সংশোধনের জন্য পৃথক দু’টি কমিটি গঠন করা হলেও তাদের রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনের। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশজুড়ে জ্বালানির দামে। কলকাতাতেও পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম এক ধাক্কায় বেড়েছে। এর ফলে পরিবহণ শিল্পে আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে বাসভাড়া বৃদ্ধি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যযাত্রীদের উপরেও। তাই একদিকে বাসমালিকদের আর্থিক সঙ্কট, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের বাড়তি খরচ— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে পরিবহণ মহল।

Recent Comments