পশ্চিমবঙ্গে সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিত করার কাজে গতি আনতে উদ্যোগী হয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিত করার কাজ নতুন নয়। তবে সাধারণত, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস ছয়েক আগে থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হয়। এ বার তা করা যায়নি।
এসআইআরের কাজের জন্য কমিশন ব্যস্ত ছিল। এখন এসআইআরের শুনানি পর্ব প্রায় শেষ। জেলায় জেলায় গিয়েছে কমিশনের নির্দেশিকা। প্রাথমিক আলোচনার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে তিনটি দফায় ভোট করার কথা ভাবছে কমিশন। উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রগুলিতে এক দফায় এবং দক্ষিণবঙ্গের কেন্দ্রগুলিতে আরও দুই দফায়। তবে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়।
অতীতে ভোটের সময় এবং ভোটপরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলি বিবেচনা করে কমিশন পশ্চিমবঙ্গের সাতটি জেলার দিকে বিশেষ নজর রেখেছে। সেই তালিকায় রয়েছে কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ এবং বীরভূম। সপ্তাহখানেক আগে সমস্ত জেলাকে সাপ্তাহিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রিপোর্ট জমা দিতে বলেছিল কমিশন। সেই রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠাচ্ছেন জেলাশাসকেরা।
সূত্রের খবর, সংবেদনশীল বুথের তালিকা হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখবে কমিশন। তার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গেও কথা বলবে কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন কত দফায় হবে, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যার উপরেই। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের এক সিনিয়র আধিকারিক সংবাদসংস্থাকে বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। সিইও দফতর এ রাজ্যে এক দফাতেই নির্বাচন আয়োজন করার পক্ষপাতী। তারা ইতিমধ্যে সেই প্রস্তাব দিল্লিতে পাঠিয়েছে। কমিশনের সদর দফতরে এ বিষয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের জন্য কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যাবে, কত কোম্পানি প্রয়োজন হবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার পরেই ভোটের দফা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

