মালদার মানিকচকের ভূতনীতে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার জল। দীর্ঘদিন জলবন্দি থাকার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা শুরু করেছেন ভূতনীবাসী। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট থেকে জল নামতে শুরু করায় অনেকেই ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন। একইসঙ্গে বন্ধ হয়ে থাকা বিদ্যুৎ পরিষেবা ফের চালু করার উদ্যোগও শুরু হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
গত ৪ সেপ্টেম্বর গঙ্গার বাঁধ ভেঙে ভূতনীর বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত জল ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভূতনীর তিনটি অঞ্চল মিলিয়ে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ এই বন্যার কবলে পড়েন। প্লাবিত হয়ে যায় বহু ঘরবাড়ি, চাষের জমি এবং রাস্তাঘাট। হঠাৎ করে জল ঢুকে পড়ায় বহু পরিবারকে নিজেদের ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে যেতে হয়।
বন্যার জেরে অনেক মানুষ সরকারি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেন। আবার অনেকে বাড়ির ছাদ কিংবা বাঁধের উঁচু জায়গায় অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটান। প্রায় ১৫ দিন ধরে জলবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হয় দুর্গত মানুষদের। খাবার, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিয়ে সমস্যার মধ্যেই সময় কাটে তাঁদের।
তবে গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। ভূতনীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার জল নামছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট জলমুক্ত হতে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। দীর্ঘদিন ত্রাণশিবির কিংবা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষজনও এবার নিজেদের বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করছেন। যে সমস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ ছিল, সেখানেও পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে।
তবে জল নামলেও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি ভূতনীবাসীর। বন্যার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র পরিস্থিতি সামাল দিলেই হবে না। আগামী দিনে যাতে ফের গঙ্গার জল ঢুকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য ভূতনীজুড়ে স্থায়ীভাবে গঙ্গার ভাঙন ও বন্যা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে। স্থায়ী বাঁধ ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কাজের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে ভূতনীতে পাঁচ ফুটেরও বেশি জল কমেছে। ফলে ধীরে ধীরে মানুষ নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। যে সমস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ ছিল, সেখানে পরিষেবা ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটও দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বন্যার পরিস্থিতির মধ্যেও উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভূতনীর ৭৩৬ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর থাকার জন্য লালবাথানী হাইস্কুলে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য বাস পরিষেবারও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।
বন্যার জল অনেকটাই নেমে যাওয়ায় আপাতত স্বস্তি ফিরছে ভূতনীতে। তবে দীর্ঘদিনের জলবন্দি জীবনের ক্ষত এখনও স্পষ্ট। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট স্বাভাবিক হলেও ভবিষ্যতে ফের এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই দ্রুত ত্রাণ ও পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বন্যা ও গঙ্গার ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করার দিকেই তাকিয়ে ভূতনীবাসী।


Recent Comments