(Rajya Sabha) উপনেতার পদ থেকে আচমকা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। আর এরপরই দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party – AAP)-এর তরুণ সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। শুক্রবার নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করে তিনি সরাসরি দলের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আমাকে স্তব্ধ করা হয়েছে, কিন্তু আমি হেরে যাইনি।” এই মন্তব্যকে ঘিরে নয়াদিল্লি (New Delhi)-র রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা
।গত বৃহস্পতিবার আপ নেতৃত্ব রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, রাঘব চাড্ডার বদলে পাঞ্জাব (Punjab)-এর সাংসদ অশোক মিত্তাল (Ashok Mittal)-কে উপনেতা হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই নতুন উপনেতা হলেন লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চ্যান্সেলর। তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় অন্য একটি জায়গায়। রাঘবের ঘনিষ্ঠ সূত্রের অভিযোগ, দলের তরফ থেকে সচিবালয়কে এমনটাও বলা হয়েছে যে রাঘবকে যেন দলের কোটা থেকে সংসদে (Parliament) কথা বলার জন্য কোনো সময় বরাদ্দ না করা হয়। এই পদক্ষেপের পরই আর নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি রাঘব।
ভিডিও বার্তায় সাধারণ মানুষের অর্থাৎ ‘আম আদমি’-র উদ্দেশ্যে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমি যখনই সংসদে কথা বলার সুযোগ পাই, আমি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলো তুলে ধরি। আমি এমন সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করি যা সাধারণত আইনসভায় খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে শোনা যায় না বা আলোচনা হয় না। কিন্তু সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলা কি কোনো অপরাধ? আমি কি কোনো ভুল করেছি? আমি কি কোনো পাপ করেছি?” তিনি আরও যোগ করেন, “আজ আমি আপনাদের সামনে এই প্রশ্নটা করছি কারণ আমার নিজের দলই রাজ্যসভা সচিবালয়কে বলেছে রাঘব চাড্ডাকে যেন সংসদে কথা বলতে দেওয়া না হয়।”
তিনি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিগত কয়েক মাসে সংসদে তিনি লাগেজ চার্জের অসংগতি, বিমানবন্দরে খাবারের মাত্রাতিরিক্ত দাম, জোমাটো বা ব্লিঙ্কিটের মতো সংস্থার গিগ কর্মীদের চরম দুর্দশা, মধ্যবিত্তের ওপর আয়করের বোঝা এবং টেলিকম কোম্পানিগুলোর ডেটা প্যাক বা রিচার্জ প্ল্যান সংক্রান্ত নানা জনস্বার্থ জড়িত বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন। এমনকি কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের অধিকার এবং পিতৃত্বকালীন ছুটির (প্যাটার্নিটি লিভ) আইনি বৈধতার মতো আধুনিক যুগের প্রাসঙ্গিক ইস্যুগুলিও তাঁর কণ্ঠেই শোনা গিয়েছিল। তাঁর মতে, এই বিষয়গুলো তুলে ধরার ফলে দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এতে দলের কী ক্ষতি হয়েছে? তাহলে কেন আমাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে? কেন আমার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে?”ভিডিওর একেবারে শেষ পর্বে রাঘব একটি তাৎপর্যপূর্ণ শায়রি বা কবিতার লাইন উল্লেখ করেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমার নীরবতাকে কোনোভাবেই আমার পরাজয় বলে মনে করবেন না। আমি হলাম সেই শান্ত নদী, যা সময় এলে ভয়ঙ্কর বন্যায় পরিণত হতে পারে।”
তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।সাম্প্রতিক অতীতে দলীয় একাধিক কর্মসূচিতে রাঘব চাড্ডার রহস্যজনক অনুপস্থিতি নিয়ে কানাঘুষো চলছিল রাজনৈতিক মহলে। বিশেষ করে যখন দলের সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) এবং বরিষ্ঠ নেতা মনীশ সিসোদিয়া (Manish Sisodia) বহুল চর্চিত আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে স্বস্তি পেয়েছিলেন, তখনও রাঘবকে সেভাবে দলের প্রথম সারিতে দেখা যায়নি। এমনকী কেজরিওয়ালের জেলে থাকা বা পদত্যাগের সময়ও তিনি কার্যত নিশ্চুপ ছিলেন। এই দূরত্বই কি তাঁকে পদচ্যুত করার মূল কারণ? আপ নেতৃত্ব অবশ্য রাঘবের আনা এই ‘কণ্ঠরোধ’-এর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। দলের মতে, উপনেতার মতো পদগুলো বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে আবর্তিত হওয়া একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।


Recent Comments