স্থলে জলে বনতলে... নিউজস্কোপ-এর নিবেদন
মৌসুমী সেনগুপ্ত
“বসন্তে ফুল গাঁথল আমার জয়ের মালা।
বইল প্রাণে দখিন হাওয়া আগুন-জ্বালা॥
পিছের বাঁশি কোণের ঘরে মিছে রে ওই কেঁদে মরে–
মরণ এবার আনল আমার বরণ-ডালা॥”
একদিন বাদেই রঙের উৎসবে মেতে উঠবে গোটা দেশ। প্রকৃতিতে এখন লাল আগুন আর শিমূলের লাল আভা। দোল মানেই রঙের খেলা। ৮ থেকে ৮০—অধিকাংশই রঙ মেখে বসন্তের উৎসবে সামিল হবেন।
দোলের আগেই বসন্তে ফুল ফুটল। এ ফুল রাজনীতির মোড়কে জনসংযোগের ফুল।
২৬ ফেব্রুয়ারি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আম্রকুঞ্জে নতুন ও পুরাতনের মিলনের পাশাপাশি বসন্তের গানে অনুষ্ঠিত হল বসন্ত উৎসব। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল বলেন, ‘বাংলার প্রকৃতিতে বসন্তকাল দু’মাস। অনেকেই প্রাণভরে তার স্বাদ পেতে চান।’
বসন্ত এসেছে দ্বারে, আর সেই ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে এক অভিনব অনুষ্ঠানে মাতে ভারতীয় জাদুঘর। ১মার্চ রবিবার, জাদুঘর প্রাঙ্গণে বসল ওড়িশি নৃত্যশিল্পী ডোনা গাঙ্গুলির ‘দীক্ষামঞ্জরী’-র রঙের নৃত্যানুষ্ঠান। তার আগে হল বড় মাপের মহড়া। নবীন নৃত্যশিল্পীরা সেখানে ওডিশি নৃত্যের মাধ্যমে বসন্তের রূপ ফুটিয়ে তোলে। নাচের পাশাপাশি ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত। ধ্রুপদী নৃত্যের গাম্ভীর্যের সঙ্গে ছিল ফাগুনের গান ও কবিতা।





গান, নাচ ও কথামালার অনন্য মেলবন্ধনে বসন্তের গানগুলো প্রাণ ফিরে পেল এই আয়োজনে। শহরের যান্ত্রিকতা ভুলে বসন্তের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে নিয়েছিল প্রেস ক্লাবের এই আয়োজন।
শনিবার উৎসবের রঙে রাঙানো এক আবেগঘন বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইল উলুবেড়িয়া। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে আয়োজিত ওই বসন্তোৎসবে মূল বার্তা ছিল মানবিকতা। কাঠিলা আশ সেন্টারে ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিছু শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় হুইলচেয়ার ও ট্রাইসাইকেল। রঙিন বেলুন, আবির আর ফুলের সাজে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে গোটা প্রাঙ্গণ। তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান ও নৃত্য-পরিবেশনা সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। শিশুদের মুখের হাসিই ছিল ওই সমাবেশের মুল লক্ষ্য। মন্ত্রী পুলক রায় বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
শনিবার মালবাজার শহর সংলগ্ন রাজা চা বাগানের অঙ্গনওয়ারি চাবাগানের মাঝে কচিকাচাদের মাঝে রঙের খেলায় মেতে উঠল জিএইচপি পিস ফাউন্ডেশন নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা। নাচ গানের মধ্যে দিয়ে লাল, নীল, হলুদ, সবুজ রঙ মেখে উৎসব পালন করা হল। দোলের আগেই রঙ খেলতে পেরে বেজায় খুশি কচিকাঁচারা। এক মাস বন্ধ ছিল ওই চা বাগান।খুলেছে ২৫ তারিখে। তাই আনন্দের মাত্রাটা ছিল একটু বেশি।
শনিবার হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সলপ বটতলায় বসন্তোৎসবের সমাবেশ যেন হয়ে উঠল যেন রাজ্যের শাসক দলের সভা। সেখানে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে চড়া স্বরে একহাত নিলেন।
৩ তারিখে দোল। আর সেদিনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোল খেলার পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। উৎসবের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘বসন্ত আজ বঙ্গে, মহিলাদের সঙ্গে’।
গত দেড় দশক মহিলাদের জন্য তৃণমূল কী কী করেছে, তার ফিরিস্তি দেওয়া হবে সেই জমায়েতে।

