‘ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স’ (Institute of Eminence) বা IoE তকমা পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। এবার সেই হতাশা কাটিয়ে প্রাপ্য টাকা ফেরতের দাবিতে সরব হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, IoE তকমা পাওয়ার জন্য আবেদনের সময় যে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল, তার ৭৫ শতাংশ ফেরত চেয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক (Ministry of Education)-কে চিঠি দিতে চলেছে যাদবপুর। টাকার অঙ্কটা নেহাত কম নয়—প্রায় ৭৫ লাখ টাকা! আর্থিক অনটনে ধুঁকতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এই টাকা এখন যেন ‘সোনার হরিণ’।
কেন এই টাকা ফেরত চাওয়া? ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স’ স্কিমে আবেদনের জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ১ কোটি টাকা প্রসেসিং ফি হিসেবে জমা দিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এই তকমা না পায়, তবে তাদের আবেদনের টাকার ৭৫ শতাংশ ফেরত পাওয়ার কথা। সেই নিয়মকে হাতিয়ার করেই এবার আসরে নেমেছেন বর্তমান উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjib Bhattacharjee)। সম্প্রতি প্রাক্তনী বা অ্যালামনিদের (Alumni) সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা মন্ত্রকের কাছে টাকা ফেরতের দাবি জানাব। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৭৫ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক।”
টাকা জোগাড়ের নেপথ্য কাহিনি: সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, আবেদনের এই ১ কোটি টাকা কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে আসেনি। ক্যালিফোর্নিয়া (California)-ভিত্তিক প্রাক্তনীদের সংগঠন ‘গ্লোবাল যাদবপুর ইউনিভার্সিটি অ্যালামনি ফাউন্ডেশন’ (Global Jadavpur University Alumni Foundation) চাঁদা তুলে এই টাকা জোগাড় করে দিয়েছিল। আশা ছিল, তকমা পেলে বিশ্ববিদ্যালয় ১০০০ কোটি টাকার গ্রান্ট পাবে, যা দিয়ে গবেষণার মান আরও উন্নত হবে। কিন্তু শেষমেশ কেন্দ্রের শর্ত এবং রাজ্য-কেন্দ্র টানাপড়েনে সেই প্রজেক্ট বিশ বাঁও জলে।
কেন মিলল না তকমা? ২০১৮ সালে ইউজিসি (UGC)-র বিশেষজ্ঞ কমিটি যাদবপুরকে শর্টলিস্ট করেছিল। কিন্তু গোল বাঁধে টাকার জোগান নিয়ে। কেন্দ্র জানায়, তারা ১০০০ কোটি টাকা দেবে, কিন্তু বাকি ২০০০ কোটি টাকা জোগাড় করতে হবে রাজ্য সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে। রাজ্য সরকার এই শর্ত মানতে নারাজ ছিল। তাদের যুক্তি ছিল, স্কিমের শুরুতে এমন কোনো শর্তের কথা বলা হয়নি। পরে যাদবপুর বাজেট কমিয়ে ৬০০ কোটির প্রস্তাব দিলেও ২০২৩ সালে তা খারিজ করে দেয় ইউজিসি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিও কম হয়নি। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) সংসদে দাবি করেছিলেন, রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারণেই যাদবপুরের এই হাল। অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (JUTA)-র অভিযোগ, কেন্দ্র মাঝপথে নিয়ম বদলেছে। এমনকি ‘জিও ইনস্টিটিউট’ (Jio Institute)-এর মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে তকমা দেওয়া হলেও, যাদবপুরকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
এখন দেখার, চিঠি পাঠানোর পর কেন্দ্র আদৌ সেই টাকা ফেরত দেয় কি না। নাকি ৭৫ লাখের ফাইলে জমবে আরও ধুলো? উত্তরের অপেক্ষায় যাদবপুর চত্বর।

