২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক মাটি। এবার খোদ তিলোত্তমার বুকেই চলল গুলি। দক্ষিণ কলকাতার (Kolkata) পাটুলি (Patuli) থানা এলাকার বাঘা যতীন (Baghajatin) সংলগ্ন অঞ্চলে ভরসন্ধ্যায় শ্যুটআউটের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এক তৃণমূল কর্মীর, যা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঘা যতীন আই ব্লক (Baghajatin I-Block) এলাকায় নিজের বাড়ির অদূরেই দাঁড়িয়েছিলেন ওই তৃণমূল কর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হঠাৎই বাইকে করে এসে দুই দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। অন্তত তিন রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা দ্রুত বাইক চালিয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।তৎক্ষণাৎ গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত তৃণমূল কর্মীর নাম ও পরিচয় নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ইতিমত্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।রাজনৈতিক উত্তাপ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার মুখে কলকাতায় এমন শ্যুটআউটের (Shootout) ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির পারদ চড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ শাসকদলের। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এটি ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি গোষ্ঠীকোন্দলের ফল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়েই পাটুলি (Patuli) থানার পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছান। ইতিমধ্যেই পুলিশ আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হামলাকারীরা আগে থেকেই ওই ব্যক্তির গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। এই ঘটনার নেপথ্যে পুরনো কোনও শত্রুতা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতার (Kolkata) মতো জনবহুল এলাকায় এমন প্রকাশ্য শ্যুটআউটের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বাঘা যতীন (Baghajatin) এবং পাটুলি সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় চলছে টহলদারি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরণের চাপা আতঙ্ক কাজ করছে, অনেকেই সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) রাজ্য জুড়ে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিলেও, খাস কলকাতার এই রক্তক্ষরণ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এখন দেখার, পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের আসল অপরাধীদের কত দ্রুত গ্রেফতার করতে পারে এবং এলাকার শান্তি বজায় রাখতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


Recent Comments