বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) প্রস্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি (BNP)। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পরেই ওপার বাংলার হবু প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় তারেককে ‘ভাই’ সম্বোধন করে দুই বাংলার সুসম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দিলেন তিনি।
কী লিখেছেন মমতা? শুক্রবার দুপুরে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে মমতা লেখেন, “বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে জানাই আমার শুভনন্দন। আমার আগাম রমজান মোবারক।” এরপরই তিনি সরাসরি তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে লেখেন, “বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেকভাইকে, তাঁর দলকে ও অন্যান্য দলকেও। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।”
মমতার এই বার্তায় কেবল রাজনৈতিক সৌজন্যই নয়, বরং দুই বাংলার আত্মিক টানের ছোঁয়াও স্পষ্ট। ‘তারেকভাই’ সম্বোধন যেন কাঁটাতারের বেড়া টপকে আত্মীয়তার সুর বাঁধল।
কূটনৈতিক গুরুত্ব: শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক আদানপ্রদান ছিল মসৃণ। কিন্তু হাসিনার পতনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসায় সেই সমীকরণে কোনো পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছিল। তবে মমতার এই আগাম শুভেচ্ছা বার্তা বুঝিয়ে দিল, রাজ্য সরকার প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেই আগ্রহী। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও দুই বাংলার মানুষের সম্পর্ক অটুট থাকবে।
প্রেক্ষাপট: ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং মুহাম্মদ ইউনূসের (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর ২০২৬-এর এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এই জয়ের খবর আসার পরেই মমতার এই বার্তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
