তপ্ত রোদে পুড়ছে জঙ্গলমহল। কিন্তু প্রকৃতির উত্তাপের চেয়েও এখন বেশি চড়ছে রাজনীতির পারদ। আসন্ন নির্বাচনকে (Election) পাখির চোখ করে এবার সরাসরি ময়দানে নামছেন পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আগামী ২৮ মার্চ থেকে পুরুলিয়া (Purulia) জেলায় শুরু হচ্ছে তাঁর দুই দিনের ম্যারাথন প্রচার অভিযান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত নির্বাচনে বিজেপির (BJP) শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া এই জেলায় হারানো জমি পুনরুদ্ধার করাই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।
এক নজরে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি: জনসভা থেকে রণকৌশল
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতৃত্ব সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী এই দুই দিনে তিনটি বড় জনসভা করবেন। তাঁর এই ঝোড়ো সফরের সূচিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
২৮ মার্চ: প্রচারের শুরু হচ্ছে রঘুনাথপুর (Raghunathpur) থেকে। এরপর সেখান থেকে তিনি চলে যাবেন কাশীপুরের (Kashipur) সেবাব্রত সংঘ মাঠে। ওই দিন রাতেই পুরুলিয়া শহরে অবস্থান করবেন তিনি এবং জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের স্ট্র্যাটেজি (Strategy) নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন।
২৯ মার্চ: সফরের দ্বিতীয় দিনে মানবাজারে (Manbazar) একটি বড়সড় জনসভায় ভাষণ দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করাই তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।পশ্চিম বর্ধমানেও হাই-ভোল্টেজ প্রচারশুধুমাত্র পুরুলিয়া নয়, লাগোয়া জেলা পশ্চিম বর্ধমানেও (West Burdwan) নিজের প্রভাব বজায় রাখতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী। ২৬ মার্চ থেকেই তাঁর প্রচারের তোড়জোড় শুরু হয়ে যাচ্ছে। পাণ্ডবেশ্বরের (Pandaveswar) প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে দুর্গাপুরের (Durgapur) লাউদোহা ফুটবল গ্রাউন্ডে প্রথম সভা করবেন তিনি। ওই দিনই খণ্ডরা সবুজ সংঘ মাঠে অন্য এক প্রার্থীর সমর্থনে তাঁর প্রচার করার কথা রয়েছে। ২৮ মার্চ রানিগঞ্জে (Raniganj) সভা সেরে সড়কপথে নেটুরিয়া (Neturia) হয়ে তিনি পুরুলিয়ায় প্রবেশ করবেন।
পুরুলিয়া কেন তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ?
পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র গত কয়েক বছরে অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের (2019 Indian General Election) পর থেকেই এই জেলায় গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য বাড়তে শুরু করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল— জেলার ৯টি আসনের মধ্যে ৬টিই দখল করেছিল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের ৯টি আসনের মধ্যে ৩টি এখনও বিরোধী শিবিরের দখলে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো নিজে হাল ধরতে চাইছেন।”মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর আমাদের কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা রেকর্ড সংখ্যক ভিড়ের প্রত্যাশা করছি,” জানিয়েছেন এক জেলা তৃণমূল নেতা।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সমীকরণ
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩০ মার্চ পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে (Baghmundi) জনসভা করতে আসছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তৃণমূল শিবিরের দাবি, এই অঞ্চলের পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোই এখন জোড়া-ফুলের প্রধান কৌশল।জঙ্গলমহলের রুক্ষ মাটিতে রাজনীতির এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।


Recent Comments