সাম্প্রতিক সময়ে উৎসবের আবহে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত। এবার সেই অশান্তির আঁচ এসে পড়ল মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার জঙ্গিপুরে। রামনবমীর (Ram Navami) শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এই এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, একটি মসজিদের সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত ও তাণ্ডব
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিপুরের শক্তিনগর (Shaktinagar) এলাকা দিয়ে যখন রামনবমীর মিছিলটি এগোচ্ছিল, তখন নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় স্থানের সামনে আসতেই উত্তেজনা ছড়ায়। প্রথমে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা এবং পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যখন একদল উত্তেজিত জনতা রাস্তার ধারের দোকানপাটে হামলা চালায়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৪০টি ছোট-বড় দোকানে ভাঙচুর চালানোর পর সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ, আর সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক।
পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ (Police) বাহিনী এবং র্যাফ (RAF)। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, সেজন্য রুট মার্চ করছে আধাসামরিক বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান
এই হিংসার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৪০টি দোকানের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে মজুত থাকা পণ্য—সবই ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। ব্যবসায়ীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে জঙ্গিপুরের বাতাস। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কথায়, “বছরের পর বছর আমরা এখানে মিলেমিশে ব্যবসা করি, কিন্তু মুহূর্তের উত্তেজনায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।” প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেও, এলাকার সামাজিক সংহতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে


Recent Comments