“দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গ অবহেলিত থেকেছে, ঘোষিত বাজেটের তুলনায় বাস্তবে ব্যয়ের পরিমাণ অত্যন্ত কম।” শনিবার কোচবিহার বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এই অভিযোগ করেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান যে উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন, পরিকাঠামোগত অগ্রগতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আগামীদিনে কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে আর্থিক বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি, ফলে অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো প্রসঙ্গে জেলা হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা ও ওষুধের অভাব রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “অবৈধ বালি ও পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হয়েছে এবং জঙ্গল ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের পরিবেশগত ভারসাম্য বিপন্ন হয়েছে”। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, রাজ্যে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় বহু মানুষ অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হচ্ছেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার কারণে বহু কর্মী বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাজ্যের জনবিন্যাস ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়। এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ প্রসঙ্গে বলেন, একটি ত্রুটিমুক্ত ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন যে ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার পরেও অনেক ক্ষেত্রে তা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়নি এবং বিভিন্ন জায়গায় বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে নির্বাচন পরিচালনা করা উচিত নয় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সমস্ত অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শমীকবাবু বলেন, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে মত গঠন করেছেন এবং আগামী নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটবে। এই সঙ্গে বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব একটি ভয়মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে তিনি দাবি করেন যে উত্তরবঙ্গসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্থিতিশীল প্রশাসনের প্রত্যাশায় পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।


Recent Comments