বাংলা সাহিত্যের আকাশে তিনি এক নির্জন নক্ষত্র। যাঁর কলম থেকে ঝরে পড়ে নাগরিক জীবনের বিষাদ, প্রেম আর আধ্যাত্মিকতার এক অদ্ভুত রসায়ন। তিনি কবি রণজিৎ দাশ (Ranjit Das)। সাতের দশকের সেই ‘নিভৃত সম্রাট’ এবার তাঁর সারস্বত সাধনার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেতে চলেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (Calcutta University) তাদের আগামী সমাবর্তন উৎসবে কবিকে সাম্মানিক ডি-লিট (D.Litt) উপাধিতে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর আগামী ২৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী হলে এই সমাবর্তন সভা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
কবিতার আঙ্গিনায় এক জাদুকরী সফর
রণজিৎ দাশের কাব্যযাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় পাঁচ দশক আগে। ১৯৭৭ সালে যখন তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আমাদের লাজুক কবিতা’ (Amader Lajuk Kabita) প্রকাশিত হয়, তখনই বোঝা গিয়েছিল বাংলা কবিতা এক নতুন সুর পেতে চলেছে। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ছকভাঙা শব্দশৈলী এবং অমোঘ নাগরিক সংবেদনশীলতা দিয়ে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন পাঠকহৃদয়। পরবর্তীতে ‘ঈশ্বরের চোখ’ (Ishwarer Chokh), ‘সন্ধ্যায় পাগল’ (Sandhhyar Pagol), ‘অসমাপ্ত আলিঙ্গন’ (Asamapto Alingan)-এর মতো কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
কবি নিজেই একবার বলেছিলেন, “কবিতা লেখার আগে অশ্রুজলে শুদ্ধ হয়ে এসো”। তাঁর কবিতায় বারবার উঠে এসেছে শহরের (City) ধূসর রাজপথ, মেট্রোরেলের (Metro Rail) যান্ত্রিকতা আর তার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া রক্তমাংসের মানুষের কথা। তাঁর ‘এলিয়েন’ (Alien) বা ‘এক্সপায়ারি ডেট’ (Expiry Date)-এর মতো কবিতাগুলো ডিজিটাল (Digital) যুগের শূন্যতাকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, তা এককথায় অনন্য।
সম্মানের মুকুটে নতুন পালক
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্মান প্রাপ্তির খবরে আপ্লুত কবি রণজিৎ দাশ। তিনি জানান, এই সম্মান আসলে বাংলা কবিতার জয়। এককালে যে সম্মান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) পেয়েছিলেন, সেই একই তালিকায় নিজের নাম দেখে তিনি বিনম্র। এর আগে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (Rabindra Puraskar) এবং পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি (Paschimbanga Bangla Academy) পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন।
সমাবর্তনের বিশেষ আকর্ষণ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রণজিৎ দাশের সঙ্গে ডি-লিট পাচ্ছেন বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটির (Christ University) প্রাক্তন উপাচার্য তথা প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ফাদার থমাস (Father Thomas)। বিজ্ঞান শাখায় ডি-এসসি (D.Sc) প্রদান করা হবে বিজ্ঞানী বিজয় পাণ্ডুরঙ্গ ভক্তকরকে (Vijay Pandurang Bhatkar), যিনি বর্তমানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Nalanda University) আচার্য। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দীক্ষান্ত ভাষণ দেবেন আইআইটি খড়্গপুরের (IIT Kharagpur) অধিকর্তা সুমন চক্রবর্তী (Suman Chakraborty)।

