অশোক সেনগুপ্ত
কলকাতা, ১৩ ফেব্রুয়ারি (হি স)। রাস্তার নামকরণ রাধাবিনোদ পালের স্মৃতিতে রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রয়াত ওই স্মরণীয় ব্যক্তিত্বর মূর্তি হাই কোর্টের সামনে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপনের আবেদন করলেন তাঁর পৌত্র।
এসপ্ল্যানেড রো (ওয়েস্ট)-এর নাম বদলে হয়েছে জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল সরণি। কলকাতা পুরসভা আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু হাই কোর্টের ঠিকানা বদল করতে বৃহস্পতিবার অনুমোদন দেয় কলকাতা হাই কোর্ট।
বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের পৌত্র সুধী বিনোদ পাল শূক্রবার নিউজস্কোপ-এর সাংবাদিকে বলেন, “ক্যালকাটা হাই কোর্টের ঠিকানা পরিবর্তন করে ‘৩, জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল সরণি’ করার খবরটা পেয়ে আমি এবং আমাদের সমগ্র পরিবারের সদস্যবৃন্দ খুব আনন্দিত। আমরা গর্ব অনুভব করছি। আমি মনে করি এটা শুধু আমার আর আমাদের পরিবারের গর্ব নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতবাসীদের গর্ব।
আমাদের আরো ইচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আর কেএমসি যদি ওই রাস্তার ওপর, ক্যালকাটা হাই কোর্টের সামনে, জাস্টিস রাধাবিনোদ পালের একটা পূর্ণ স্ট্যাচু স্থাপন করেন, তাহলে ওনার প্রতি সঠিক ভাবে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে। আশা করি, আমাদের এই অনুরোধ ও ইচ্ছা, নিকট ভবিষ্যতে বাস্তবে রূপান্তরিত হবে।”
গত বছর জাপান থেকে ফিরে প্রয়াত বিচারপতির নামে রাস্তা চিহ্ণিত হবে বলে পরিবারকে কথা দেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত আগস্ট মাসে রাস্তার নাম বদল হয়। রাস্তার নাম রাধাবিনোদ পালের নামে হলেও হাই কোর্টের ঠিকানা বদলের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত বাধ্যবাধকতায় হাই কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। বৃহস্পতিবার সেই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় আদালত।
প্রসঙ্গত, ডঃ রাধাবিনোদ পাল (২৭ জানুয়ারি ১৮৮৬ – ১০ জানুয়ারি ১৯৬৭) আইনবিদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দূরপ্রাচ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারার্থে স্থাপিত আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ‘জাপান-বন্ধু ভারতীয়’ বলে খ্যাত তিনি। জাপানের ইতিহাসে রাধা বিনোদের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। জাপানে তাঁর নামে স্মারক ও জাপান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণাকেন্দ্র আছে। তিনি আইন সম্পর্কিত বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

Recent Comments