রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স রান ওয়ে ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট-সহ মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপর।
জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ এক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঁচি থেকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রোগীর সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক, চিকিৎসা-সহায়ক কর্মী এবং বিমানের ক্রু সদস্যরা। সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১১ মিনিট নাগাদ বিমানটি রাঁচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। কিন্তু আকাশে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণের সমস্যা দেখা দেয়।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের (ডিজিসিএ) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওড়ার অল্প সময় পর বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল বলে জানা গেছে। পাইলট আরও উচ্চতায় ওঠার অনুমতি চেয়েছিলেন বলেও সূত্রের দাবি। এর কিছুক্ষণ পরই বিমানটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
পরে ঝাড়খণ্ডের একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায় এবং তারপরই আগুনের শিখা দেখা যায়। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও বিমানে থাকা কারও প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
রাঁচি বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে খারাপ আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার তদন্তে এয়ারক্র্যাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তারা বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের কাজ শুরু করেছে।
এ ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
উন্নত চিকিৎসার আশায় শুরু হওয়া এক যাত্রা এভাবে মর্মান্তিক পরিণতি পাবে—এ কথা কেউ ভাবেননি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নানা প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে যাবে। তবে এই দুর্ঘটনা আবারও ছোট আকারের বিমান ও এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।

