বৃষ্টিস্নাত শনিবার সকালে কলকাতার রেড রোডে পবিত্র ইদ-উল-ফিতরের নমাজ অনুষ্ঠানে একযোগে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী যখন ‘এসআইআর’ (SIR) ইস্যুতে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন, অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘রমজানে রাম, দিওয়ালিতে আলি’-র মতো শক্তিশালী শব্দবন্ধ ব্যবহার করে দেশের বর্তমান বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
‘রমজানে রাম, দিওয়ালিতে আলি’ — অভিষেকের কড়া বার্তা
রেড রোডের মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার অটুট সম্প্রীতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু জোরালো ভাষণে তিনি বলেন:
সাংস্কৃতিক ঐক্য: “রমজানে রাম আছেন, তো দিওয়ালিতে আলি আছেন। যে চাঁদ দেখে ইদ পালন করা হয়, সেই চাঁদ দেখেই করবা চৌথের ব্রত খোলা হয়। এটাই আমাদের ভারতবর্ষ, এটাই দেশের সংস্কৃতি।” একদল লোক বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইকে লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। হিন্দুকে মুসলিমের বিরুদ্ধে এবং মুসলিমকে হিন্দুর বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।”
হিন্দুস্তান বিপদে: প্রখ্যাত উর্দু কবি রাহাত ইন্দোরির কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, “কেউ বলে হিন্দু বিপদে আছে, কেউ বলে মুসলিম বিপদে আছে। আমি বলছি ধর্মের চশমা খুলে দেখুন, পুরো হিন্দুস্তান বিপদে রয়েছে।”
‘আরবে গিয়ে গলা মেলান, দেশে ফিরে নাম কাটেন’, মোদীকে নিশানা মমতার
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণের বড় অংশ জুড়েই ছিল ‘এসআইআর’ (SIR) ইস্যু এবং নাগরিকত্ব সংশয় নিয়ে কেন্দ্রের কড়া সমালোচনা:
প্রধানমন্ত্রীর দ্বিচারিতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “উনি যখন সৌদি আরবে গিয়ে হাত মেলান, দুবাই গিয়ে আলিঙ্গন করেন, তখন হিন্দু-মুসলমানের কথা মনে পড়ে না? আর দেশে ফিরে এলেই আপনার নাম কাটার কথা মনে পড়ে! বেছে বেছে একটি সম্প্রদায়ের মানুষের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।”
আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি: এসআইআর নিয়ে তাঁর লড়াই আরও জোরদার হবে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, “সব সম্প্রদায়, প্রত্যেক মানুষের পরিবারের সদস্য হিসাবে এসআইআর নিয়ে লড়াই করব। হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট গিয়েছি। এই লড়াই জারি থাকবে। গলা কেটে গেলেও মাথা নোয়াব না।”
২০২৬-এর আবহে রেড রোডের এই ইদের অনুষ্ঠান কার্যত এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চ হয়ে উঠল। বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, এই মঞ্চ থেকেই বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিরোধের ডাক দিল রাজ্যের শাসক দল।


Recent Comments