ভক্তির আবেগ আর লাখো মানুষের ঢলে এ বছরও জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল ওড়িশার পুরী। তবে শ্রীজগন্নাথদেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আহত ও অসুস্থ হয়েছেন অন্তত ১২০ জন ভক্ত। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রথযাত্রা উপলক্ষে সকাল থেকেই পুরীর শ্রীমন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে রথে আরোহন করানোর সময় এবং পরে রথের রশিতে টান দেওয়ার জন্য ভক্তদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ তৈরি হয়। সেই সময় হুড়োহুড়ি ও ঠেলাঠেলির জেরে বহু মানুষ ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং ভিড়ের চাপে বহু পুণ্যার্থী আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অতিরিক্ত ভিড়ের পাশাপাশি তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণেও অনেক ভক্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেউ শ্বাসকষ্টে, কেউ আবার ডিহাইড্রেশন ও অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
খবর পেয়েই পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে পাঠায়। জেলা হাসপাতাল-সহ একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বেশ কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল ওড়িশা প্রশাসন। মন্দির চত্বর ও রথযাত্রার রুটজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, দমকল ও চিকিৎসক দল মোতায়েন ছিল। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ উদ্ধারপথও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর প্রশাসন ভক্তদের শান্ত থাকার, নির্ধারিত পথ ব্যবহার করার এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় লাগাতার মাইকিংও করা হচ্ছে।


Recent Comments