গ্রেফতার হলেন সদ্যপ্রাক্তন মন্ত্রী, প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। সদ্যপ্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের লোক বলে চিহ্ণিত ছিলেন তিনি।
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে তাঁকে জেরা করেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) আধিকারিকরা। বয়ানে অসঙ্গতি ও তথ্য গোপনের চেষ্টার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন অগ্নিনির্বাপন মন্ত্রীকে।
২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে আগে একাধিকবার ফের তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ১ মে, ২০২৬-এ তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন এবং পরবর্তী তলবেও সহযোগিতা করার কথা জানান। সে দিন সিজিও কমপ্লেক্স অফিসে প্রায় ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুকেও ওই একই মামলায় তলব করা হয়।
পুরনিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে সুজিত বসু, তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং পরিবারিক সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি আগেও তাঁদের বাড়ি, অফিস ও তাঁদের যে ধাবাটি রয়েছে, সেখানেও ইডির অভিযান চলে।
তল্লাশি চালানো হয়েছে। সুজিতবাবু নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে সমস্ত অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বাড়িতে ইডি তল্লাশির জেরে প্রকাশ্যে তোপ দেগেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বার বার তলবের মুখে সুজিতবাবু দাবি করেছিলেন, যে মামলায় তাঁকে তলব করা হচ্ছে, ওই মামলায় ইতিমধ্যে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। কিন্তু সেই চার্জশিটে তাঁর নাম নেই বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
ভোটের আগে একাধিক বার ইডি তলব করেছিল বিধাননগর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজিতবাবুকে। কিন্তু ভোটের কাজে ব্যস্ততার জন্য তিনি হাজিরা দিতে পারেননি।আদালতেও তা জানিয়েছিলেন। পরে
ভোটের ফলঘোষণার পরে সোমবার, এই প্রথম বার ইডির দফতরে হাজিরা দেন সুজিতবাবু। সঙ্গে ছিলেন তাঁর আইনজীবী। সূত্রের খবর, কিছু অকাট্য কিছু প্রমাণ দেখিয়ে ইডি আধিকারিকরা তাঁকে ক্রমান্বয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েন সুজিত বসু। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।


Recent Comments