সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতা হস্তান্তরের এই আবহে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার্থে কড়া নির্দেশ দিলেন তিনি। প্রশাসন ও দলীয় স্তরে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, “তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, যেন অসম্মান না হয়।”নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগ এবং পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক প্রধান শুভেন্দু অধিকারী এই কড়া বার্তা দিয়েছেন।তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই নির্বাচনী ময়দানে সীমাবদ্ধ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজ্য শাসন করেছেন এবং তিনি এই রাজ্যের তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। তাই প্রোটোকল অনুযায়ী তাঁর নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি বা অসম্মান সরকার বরদাস্ত করবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক সৌজন্যের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও প্রোটোকল মেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
নির্বাচনের সময় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে যে তীব্র রাজনৈতিক তিক্ততা দেখা গিয়েছিল, নতুন সরকার গঠনের পর সেই উত্তাপ কমিয়ে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক সৌজন্য বজায় রাখার বার্তা দিতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী।নতুন সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যে কাজ শুরু করেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসন নিশ্চিত করছে যাতে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে।
একদিকে যেমন রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগান তুলে কাজ শুরু করেছে সরকার, তেমনই বিরোধী নেত্রীর সম্মান রক্ষায় এই স্পষ্ট নির্দেশ রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।


Recent Comments