“হিন্দু দম্পতিদের তিন সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আরএসএস (সঙ্ঘ) প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর দাবি, “বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, তিনটির কম সন্তান হলে বংশবিস্তারের গতি কমে যায়। এর ফলে সেই পরিবার তথা কোনও সম্প্রদায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।”
মঙ্গলবার লখনউয়ের নিরালানগরে সরস্বতী বিদ্যামন্দিরে সঙ্ঘপ্রধানের মঙ্লবারের এই মন্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন প্রবীন সাংবাদিক সুস্মিতা রায়। সুস্মিতা জানান, “সরকারি মতে এখন ভারতের জন সংখ্যা ১৪০ কোটি, এর ওপর মোহন ভাগবত মহাশয় কেন আরও সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন, ভাবলে অবাক হতে হয়।
তথ্যসূত্রই বলছে, এই দেশে মুসলিমদের সংখ্যা ২০ কোটির ওপর। তার মানে হিন্দুপ্রধান ভারতে মুসলিম সহ সংখ্যালঘুদের সংখ্যা সব মিলিয়ে হয়ত ৩০/৩৫ কোটিও নয়। আর শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? বরং তা আরও বাড়বে, আর এস এস প্রধানের এই বক্তব্য র সঙ্গে কারও একমত হওয়া উচিত বলে মনে করি না। যে দেশের জনসংখ্যা কম, তাদের উন্নয়ন, জীবন যাত্রার মানও ভাল, জনসংখ্যা বৃদ্ধির দিকে মন না দিয়ে কিভাবে বিভেদের বিষ কমানো যায় সেদিকে নজর দিলে মনে হয় ভাল হয়।”
হিন্দু দম্পতিদের তিন সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সঙ্ঘপ্রধান ওই সভায় দাবি করেন, বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, তিনটির কম সন্তান হলে বংশবিস্তারের গতি কমে যায়। এর ফলে সেই পরিবার তথা কোনও সম্প্রদায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
অনুপ্রবেশ নিয়েও সরব হন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের “শনাক্ত করা এবং নির্বাসিত করা” উচিত। তাঁদের চাকরি দেওয়া উচিত নয়। এ ব্যাপারে সুস্মিতা বলেন, “অনুপ্রবেশ কেউ সমর্থন করে না। আমরাও করি না। আর বংশ বিস্তার? সন্তান কমই থাক, বা বেশি এতে কিছু যায় আসে কি? এই দেশে বহু বরণীয় মনীষীর বংশ নেই। কিন্তু মানুষের মনের মণিকোঠায় তাঁরা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। ভবিষ্যতেও থাকবেন। মোহন ভাগবত ও তাঁর সংগঠন ও অনুগামীদের এই সব কুযুক্তি না মানাই ভাল বলে মনে করি।

