back to top
Thursday, June 25, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিতারাতলা বিপর্যয়: তৃণমূলের ‘পাপের ফল’, ফিরহাদ হাকিমের সইয়ের নথি দেখালেন শুভেন্দু

তারাতলা বিপর্যয়: তৃণমূলের ‘পাপের ফল’, ফিরহাদ হাকিমের সইয়ের নথি দেখালেন শুভেন্দু

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে যে মর্মান্তিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ২০ জন, যারা বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) কঠোর ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

​বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সব জায়গায় টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয়কে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। এটা (এই দুর্ঘটনা) আপনাদের পাপের ফল। এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ভেঙে পড়া ওই গুদামের নকশায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) সই রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী তিনি কাউকে রেহাই দেবেন না।

নির্মাণকাজ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত:

তারাতলার (Taratala) এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) এলাকার সমস্ত বাড়ি তৈরির কাজ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, রাজারহাট (Rajarhat), পূজালি (Pujali), বজবজ (Budge Budge), সোনারপুর (Sonarpur) এবং মহেশতলা (Maheshtala)-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতেও আগামী ৪ সপ্তাহ সমস্ত ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত নকশা অডিট হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ক্ষতিপূরণের ঘোষণা:

নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছিলেন। এছাড়া রাজ্য সরকার আহতদের চিকিৎসার জন্য ১ লক্ষ টাকা এবং কেন্দ্রের তরফে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ফিরহাদের সাফাই:

মুখ্যমন্ত্রীর আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফিরহাদ হাকিম জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। সাধারণ ভাবে পুরসভার প্ল্যান অনুমোদন হয় বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট থেকে। এমবিসি-তে (মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি) টেকনিক্যাল লোকেরা থাকেন। আমার তাতে কোনও এক্তিয়ার নেই। কোনটা বেআইনি হল, কোনটা হল না, সেটা দেখারও এক্তিয়ার আমার নেই। এমবিসি থেকে কমিশনার হয়ে অনুমোদনের জন্য আমার কাছে আসে। ওটা শুধু একটা ফর্মালিটি, সই করার জন্য।”

আরো পড়ুন:  মমতার বাম-ঐক্যে সহযোগিতার প্রার্থনার প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ সেলিমের

কালী প্রসঙ্গ ও দুর্নীতি:

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুরসভার প্ল্যান পাস করানোর ক্ষেত্রে ‘কালী’ নামের কোনো এক ব্যক্তির উল্লেখ করে বড় দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। সূত্রের খবর, কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই সরকারি কর্মচারী ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি (OSD) ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “পুরসভায় কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। বাইপাসের পাশে যে ২০০ কোটির তৃণমূল ভবন তৈরি হচ্ছে, এই টাকা তুলে সেখানেই পাঠানো হয়।” সব মিলিয়ে তারাতলা বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন উত্তাপের পারদ তুঙ্গেl

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments