আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কড়া রদবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ময়দানে অবতীর্ণ হলেন রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে রাজভবনে ডেকে পাঠিয়ে রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ খোঁজখবর নিলেন তিনি।
রাজভবনে হাইভোল্টেজ বৈঠক ও রবির তৎপরতা
ভোট ঘোষণার ঠিক আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেন সি. ভি. আনন্দ বোস। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে স্থায়ী রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। দায়িত্ব নিয়েই রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে প্রথমবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক সারলেন তিনি। রাজভবনের এই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা (Dushyant Nariala) এবং নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ (Sanghamitra Ghosh)।
আইনশৃঙ্খলা সূত্রের খবর, রাজ্যপালের ডাকা এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ। হাইভোল্টেজ এই নির্বাচনের আগে যাতে রাজ্যে কোনও ধরনের অশান্তি বা রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্যপাল প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের থেকে গ্রাউন্ড রিপোর্ট নেন। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ‘হিংসামুক্ত’ নির্বাচনের ডাক দিয়েছে, আর সেই সুরেই প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল।
কমিশনের নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদল
রাজ্যপালের এই তৎপরতার ঠিক আগেই, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তৎকালীন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে নির্বাচনী সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের জায়গাতেই দায়িত্ব পেয়েছেন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং সংঘমিত্রা ঘোষ। এই নতুন দুই প্রশাসনিক কর্তার সঙ্গেই প্রথম বৈঠক সারলেন রাজ্যপাল।
শুধুমাত্র আমলা স্তরেই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরেও আমূল পরিবর্তন এনেছে। ডিজি (DGP) পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে নতুন আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তিত এই পুলিশি কাঠামোর সঙ্গে সাধারণ প্রশাসনের সমন্বয় ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও রাজভবন নিয়মিত খোঁজ রাখবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন এবং রাজভবন উভয়েই যে কড়া হাতে রাজ্যের রাশ ধরতে চাইছে, তা এই পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট। নতুন রাজ্যপালের এই ত্বরিত পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজভবন শুধুমাত্র দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না, বরং কড়া নজরদারি চালাবে এবং পরিস্থিতি মতো পদক্ষেপ ও নেওয়া হবে।


Recent Comments