নিজস্ব সংবাদদাতা: ৩ মে পালিত হয় World Press Freedom Day—এই দিনটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য জানার অধিকারকে স্মরণ করার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন International Federation of Journalists (আইএফজে) জানিয়েছে, বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুতর সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
UNESCO-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ, সাংবাদিকরা আগের তুলনায় এখন বেশি বাধার মুখে পড়ছেন—তথ্য প্রকাশ করা, সত্য তুলে ধরা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করা অনেক কঠিন হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। আইএফজে-র তথ্য বলছে, শুধু ২০২৫ সালেই ১২৮ জন সাংবাদিক কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আর ২০২৬ সালের শুরুতেই ইতিমধ্যে ৯ জন নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা যেমন Ukraine, Palestine, Lebanon এবং Sudan-এ পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। সেখানে সাংবাদিকদের শুধুমাত্র তাদের কাজের জন্যই টার্গেট করা হচ্ছে—গ্রেফতার, হুমকি, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে।
তবে সমস্যা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। এখন ডিজিটাল দুনিয়াতেও সাংবাদিকরা বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। নানা ধরনের নজরদারি, হ্যাকিং, ফিশিং ইমেল বা ভুয়ো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের তথ্য চুরি করা হচ্ছে। অনেক সময় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত প্রযুক্তির স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে, যা তাদের কাজের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
এর পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-র অপব্যবহারও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। ভুয়ো খবর ছড়ানো, কারও পরিচয় নকল করা, সাংবাদিকদের লেখা অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা—এসবের ফলে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আইএফজে-র সাধারণ সম্পাদক Anthony Bellanger স্পষ্টভাবে বলেছেন, “যখন কোনও সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ হয়, তখন আসলে সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকারকেই আঘাত করা হয়।” তাই তিনি মনে করেন, শুধু সাংবাদিক নয়, সাধারণ নাগরিকদেরও এই বিষয়ে সচেতন হয়ে সরকারকে দায়বদ্ধ করতে হবে।
৩ মে এই বিশেষ দিনে প্যারিসের Place de l’Hôtel de Ville-এ একটি বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার করবেন। পাশাপাশি ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে আইএফজে-র শতবর্ষ উপলক্ষে বিশ্ব কংগ্রেস, যেখানে ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা কীভাবে আরও স্বাধীন ও নিরাপদ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে।
সব মিলিয়ে, এই বার্তাই সামনে আসছে—সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সাংবাদিকদের বিষয় নয়, এটি সাধারণ মানুষের অধিকারও। তাই এই অধিকার রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।

Recent Comments