প্রতি বছর ২১শে জুলাই মানেই ভারতের (India) অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র কলকাতার (Kolkata) বুকে এক সুবিশাল জনসমুদ্রের উপস্থিতি। শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা (Dharmatala) চত্বরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) উদ্যোগে পালিত হয় ঐতিহাসিক শহিদ দিবস। তবে এবছর সমাবেশস্থল ঘিরে নতুন ফৌজদারি আইনের ১৬৩ ধারা জারি থাকার একটি বিষয় সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে কিছুটা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু বিরোধীদের সমস্ত জল্পনা ও আইনি চোখরাঙানিকে কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen)। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও বাধাই একুশের আবেগের সমাবেশকে রুখতে পারবে না।সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি এবং ১৬৩ ধারার আইনি জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান দোলা। তিনি বলেন, গত ৩৩ বছর ধরে যেভাবে শহিদ তর্পণ হয়ে আসছে, এবারেও তার কোনওরকম ব্যতিক্রম হবে না। সাংসদের কথায়, “দরকার হলে আমরা দলবেঁধে থানায় যাব, কিন্তু সমাবেশ তার নির্দিষ্ট জায়গাতেই হবে।” তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী ও কড়া বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার যে, শাসক দল তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থেকে এক চুলও সরতে নারাজ।
দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বেই আগামী ২১শে জুলাই ধর্মতলায় লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হতে চলেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী পুরনো ১৪৪ ধারার বদলে সারা দেশেই এখন ১৬৩ ধারা কার্যকর হয়েছে। আর এই ধারা অমান্য করে এত বড় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন নিয়ে বিরোধীরা যখন নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই তৃণমূল নেতৃত্বের এই কড়া অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দোলা সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের আবেগ এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন কোনও কাগুজে আইন বা পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখা যায় না। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) প্রতিটি প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও দলের নিচুতলার কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই দিনটিতে জড়ো হন।
তাই পুলিশ বা প্রশাসন যদি অকারণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে দলগতভাবে এবং রাজনৈতিকভাবেই তার কড়া মোকাবিলা করা হবে বলেও প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের কর্মীদের কলকাতায় নিয়ে আসার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে শুরু করে দক্ষিণের জঙ্গলমহল— সব জায়গা থেকেই বাস, বিশেষ ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহনে করে লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থক ধর্মতলামুখী হবেন।
শহরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষদের রাত্রিবাস এবং খাওয়া-দাওয়ার সুব্যবস্থা করা হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি জেলার ব্লক স্তরের নেতারা এই প্রস্তুতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকি করছেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, একুশের মেগা সমাবেশ ঘাসফুল শিবিরের কাছে শুধুমাত্র একটি বাৎসরিক রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি আপামর কর্মীদের একটি গভীর আবেগের জায়গা।
১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের ডাকে মহাকরণ অভিযানে গিয়ে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে ১৩ জন তরতাজা যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই দিনটিকে স্মরণ করেই প্রতি বছর এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তাই এই দিনটিতে কোনও রকম আইনি বা প্রশাসনিক বাধা এলে তা যে দল মুখ বুজে মেনে নেবে না, দোলার কথাতেই তা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।


Recent Comments