back to top
Tuesday, October 13, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিশ্ব৩৪০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ বিক্রির চাপে প্যারিস! রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে...

৩৪০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ বিক্রির চাপে প্যারিস! রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ফ্রান্স

Ankita Mondal: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে ফ্রান্স। একদিকে রেকর্ড ঋণের বোঝা, অন্যদিকে ভাঙা পার্লামেন্ট নিয়ে সরকারের টিকে থাকার লড়াই। ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এখন এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে।

ফ্রান্সের আর্থিক পরিসংখ্যান রীতিমতো ভয়াবহ। সরকার আশা করছে ২০২৬ সালের শেষে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে জিডিপির ৫.৪%। আগে লক্ষ্য ছিল ২০২৬-এই ঘাটতি ৫%-এ নামিয়ে আনা, কিন্তু এখন তা পিছিয়ে ২০২৭ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৯-এর মধ্যে ইইউ-র বেঁধে দেওয়া ৩% সীমায় পৌঁছানো, কিন্তু অর্থনীতিবিদরা তা নিয়ে সন্দিহান।

দেশের ঋণের বোঝা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যান সংস্থা INSEE জানিয়েছে, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকেই ঋণ জিডিপির ১১৯% ছুঁয়েছে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী রেকর্ড। অর্থ মন্ত্রকের অনুমান, ২০২৬-এর শেষে তা ১১৯.৩% এবং ২০২৭-এ ১২১.৭% হবে, যা ইইউ-র ৬০% সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। ২০১৯ সালে এই ঋণ ১০০%-র নিচে ছিল।

অর্থনৈতিক বৃদ্ধিও কমছে। সরকার ২০২৬-র বৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.৭% থেকে কমিয়ে ০.৫% করেছে। বৃদ্ধি কমলে কর আদায় কমবে, ফলে ঘাটতি কমানো আরও কঠিন হবে।

এই ঘাটতি মেটাতে এবং পুরনো সস্তা ঋণ শোধ করতে ফ্রান্সকে আগামী বছর রেকর্ড ৩৪০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ বিক্রি করতে হবে।

অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু ২০২৭ সালের খসড়া বাজেট পেশ করেন। এই বাজেটে ৪৩ বিলিয়ন ইউরোর নতুন ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে, পুরনো ব্যবস্থা মিলিয়ে মোট আর্থিক প্রচেষ্টা প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ইউরো।

কিন্তু বাজেট পেশের পরদিনই বিরোধীরা তা খারিজ করে দেয়। বাজারের প্রতিক্রিয়াও ছিল নেতিবাচক। ফ্রান্সের ১০ বছরের বন্ডের সুদ বেড়ে প্রায় ৫% হয়েছে, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ।

জার্মানি ও ফ্রান্সের ১০ বছরের বন্ডের সুদের ফারাক এখন ১.৫৩ শতাংশ পয়েন্ট, যা ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা ফ্রান্সের ঋণ শোধের ক্ষমতা নিয়ে ভরসা হারাচ্ছে। এই সংকটের জেরে ইউরোর দামও পড়ে ১.১২ ডলারে নেমেছে, যা ২০২৫-এর মে মাসের পর সর্বনিম্ন।

আরো পড়ুন:  নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের দাবিকে সমর্থন মস্কোর, লাভ কতটা? পথে বাধা বেজিং

লেকর্নু সরকারের পার্লামেন্টে কোনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। জাতীয় পরিষদ গভীরভাবে বিভক্ত। ২০২৭ সালের এপ্রিল-মে মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, যেখানে জনমত সমীক্ষা বলছে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লে পেন জিততে পারেন। ফলে সব দলই এখন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, কেউ কৃচ্ছ্রতার দায় নিতে চাইছে না।

বাজেট আলোচনা শুরুতেই পেনশনভোগীদের উপর কাটছাঁটের প্রস্তাব বাতিল করতে হয়েছে ভোট হারানোর ভয়ে।

ফলে ফ্রান্স এক দুষ্টচক্রে আটকে গেছে – কৃচ্ছ্রতা ছাড়া বাজার ভরসা করবে না, আর কৃচ্ছ্রতা করলে সরকার পড়ে যাবে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments