রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গত কয়েকদিনে নজিরবিহীন অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে, ঠিক তখনই এক ভিন্নধর্মী ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য বিধানসভা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের পাঁচ বিধায়ক। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বৈঠকের নেপথ্যে কারা?
বিধানসভার অন্দরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের দাপুটে ও মমতা ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পাঁচ বিধায়ক। এঁদের মধ্যে ছিলেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, অশোক দেব, আবদুর রহিম বক্সি এবং বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তাঁর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানাতে গিয়েছিলেন।
নিরাপত্তা নিয়ে টানাপোড়ন
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। তৃণমূলের অভিযোগ, কালীঘাটের বাসভবন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর নামে পুরনো ও বিশ্বস্ত নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (Personal Security Officer) স্বরূপ গোস্বামী এবং কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ, স্বরূপ ও কুসুম গত ২০ বছর ধরে নেত্রীর ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। এই দুই নিরাপত্তারক্ষীকে সরিয়ে নেওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।
বিধায়কদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যারা নেত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলে আসছেন, তাঁদেরই বহাল রাখা হোক। তাঁদের যুক্তি, নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে মমতার এক ধরণের মানসিক বোঝাপড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে, তাই নতুন কাউকে এই মুহূর্তে তিনি গ্রহণ করতে চাইছেন না।
নবান্নের যুক্তি ও শুভেন্দুর অবস্থান
অন্যদিকে, নবান্নের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও নিয়ম অনুযায়ী ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা পাচ্ছেন। অর্থাৎ, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে এখনও প্রায় ৫০ জন কর্মী মোতায়েন রয়েছেন। সরকারি মহলের দাবি, ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী নিরাপত্তারক্ষী বদল একটি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, একে ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে বিচার করা সম্ভব নয়।তবে বিধায়কদের আর্জি শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ও বিরোধী শিবিরের এই কথোপকথন আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির নতুন কোনো মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
হকার উচ্ছেদ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, এদিন বিধানসভায় হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন তৃণমূল বিধায়করা। শহরে যেভাবে রাতারাতি হকার উচ্ছেদ শুরু হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানান তাঁরা। বিধায়কদের স্পষ্ট বক্তব্য, আগে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক, তারপরই অন্য পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কোনো মানুষের রুটি-রুজিতে এভাবে আঘাত হানা ঠিক নয় বলে তাঁরা অভিমত প্রকাশ করেন।


Recent Comments