অশোক সেনগুপ্ত
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে অভিযোগ আনলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের (সিইও) স্ত্রী-র সম্পত্তি নিয়ে। রাজনৈতিক মহলে এই অভিযোগ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। সরাসরি চটজলদি সেই অভিযোগের উত্তর দিয়েছেন সিইও।
গত মধ্যরাতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার মনোজ আগরওয়াল ‘লক্ষ্মণ রেখা’ সম্পর্কে অফিসারদের সতর্ক করে এবং ‘চাকরির নিয়ম’ সম্পর্কে তাঁদের বক্তৃতা দেন। কিন্তু সিবিআইয়ের চার্জশিট অনুসারে, প্রায় ৩০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং কোটি কোটি টাকার ছ’টি প্লট আপনার স্ত্রীর সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। তখন এই নৈতিক উপদেশটি কোথায় ছিল? ওই প্লটগুলোর তিনটি দ্বারকায়। গুরগাঁও, গ্রেটার নয়ডা এবং কলকাতায় অন্যান্যগুলো। নীতিশাস্ত্র প্রচার করার আগে, রেকর্ডে থাকা প্রশ্নের উত্তর দিন। প্রথমে জবাবদিহিতা, পরে বক্তৃতা।”
এক্সবার্তায় চন্দ্রিমার এই অভিযোগের পর মঙ্গলবার একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের ই সংস্করণ লেখে, “১৯৯০ সালের বেঙ্গল ক্যাডারের আইএএস মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে হিসাব-বহির্ভূত আয়ের অভিযোগ উঠেছে। ‘প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট’-এ এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী রুমা এবং শ্বশুর এম পি গর্গ।”
‘লক্ষ্মণ রেখা’ এবং ‘চাকরির নিয়ম’ সম্পর্কে মনোজবাবুর মন্তব্যের লক্ষ্য ছিল এসআইআর-এর কাজে যুক্ত ও পক্ষপাতদোষে দুষ্ট কিছু সরকারি অফিসারের
প্রতি সতর্কতা। আর তাতেই ঘা লাগে রাজ্যের শাসকদলের। তাই প্রশ্ন ওঠে চন্দ্রিমার অভিযোগ নিয়ে।
মঙ্গলবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের সিইও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক্সবার্তায় লিখেছেন, “সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিষয়টির পরিসমাপ্তি হয়েছিল সম্মানজনকভাবে। উল্লেখ করা ওই চার্জশিট শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞ বিশেষ বিচারক খারিজ করে দিয়েছিলেন। মিসেস আগরওয়াল তাঁর বিয়ের আগে থেকেই সম্পত্তির মালিক এবং ১৯৮৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে তার আয়কর রিটার্ন দাখিল করে আসছেন। তাঁর সমস্ত সম্পদ – তা সে হস্তান্তরিত বা অর্জিত, যেটাই হোক – গত ৪৩ বছর ধরে আয়কর বিভাগের কাছে সত্যতার সাথে ঘোষণা করা হয়েছে। যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে সেগুলো। তাঁর আর্থিক বিষয়গুলি সর্বদা স্বচ্ছ এবং আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
দীর্ঘ অগ্নিপরীক্ষার পরে ‘একটি কুকুরকে বদনাম দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার’ প্রচেষ্টা প্রকাশিত হয়েছে। সত্য এবং আইনের শাসন নিঃসন্দেহে জয়লাভ করবে। সত্যমেব জয়তে।”
এসআইআর-কে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য বিতর্ক শুরু হয়েছে গত অক্টোবর মাস থেকেই। ক্রমে তা কেন্দ্রীভূত হয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একতরফা অভিযোগ চলছিল। এবার তা অন্য মাত্রা পেল সিইও-র স্ত্রী-র সম্পত্তিজনিত অভিযোগ ও এক্সবার্তায় সিইও-র চটজলদি জবাবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার পশ্চিমবঙ্গের ডব্লু বিসিএস (এক্সিকিটিভ) অফিসারদের সংগঠন নির্বাচন কমিশনের দেওয়া একটি এক্সবার্তার প্রতিবাদ জানায়। তৎক্ষণাৎ কমিশনের তরফে লিখিতভাবে ওই সংগঠনকে তাদের ‘এক্তিয়ার’ নিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।


Recent Comments