SIR কে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে আবার নতুন করে রাজনৈতি বিতর্ক শুরু হয়েছে। বামফ্রন্টদের দাবী অনুযায়ী কলকাতা পৌরসভার কিছু ওয়ার্ডে বহু ভোটারকে ‘under adjudication‘ তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের অভিযোগ অনুসারে বহু বৈধ ভোটার বিশেষ করে কলকাতার বহু সংখ্যালঘু এলাকার ভোটারকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বামপন্থী রাজনৈতিক সমর্থকেরা নির্বাচন কমিশন দফতরের বাইরে জড়ো হন ও তীব্র প্রতিবাদ জানান। রাতভর ধর্ণার পর এখনো অবস্থান বিক্ষোভ চলছে বামেদের। তাদের দাবি, CEO কে তাদের সঙ্গে দেখা করতে হবে এবং ডেপুটেশন জমা নিতে হবে। CEO অফিসের বাইরে ক্রমাগত বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন বামপন্থীরা এবং তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবী না মানলে এই অবস্থান বিক্ষোভ তারা চালিয়ে যাবেন।
তাদের এই বিক্ষোভে গলা মিলিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ‘X’ ( formerly twitter), হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চক্রান্তে আজ এক অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে মতুয়া ভাই – বোনদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতির খেলা চলছে । তাদের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। SIR করে ইচ্ছে করে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। যারা পুরুষানুক্রমে এদেশের নাগরিক, যাদের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়, আজ নতুন করে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে।”
তিনি এও বলেন, এই অন্যায় তিনি মেনে নেবেন না। মাতুয়া ভাইবোন সহ বাংলার মানুষদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। বাংলার মানুষের গায়ে কোনো আঁচ লাগতে দেবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা বলেছেন, “মতুয়ারা এই দেশেরই নাগরিক এবং এই দেশেরই নাগরিক থাকবে। যদি কয়েকজন মতুয়ার নাম বাদ গিয়ে থাকে তার জন্যে দায়ী হচ্ছেন মমতা ব্যানার্জী। মতুয়াদের কাছে মমতা ব্যানার্জীর ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।” কারো ভোটাধিকার হারাবেনা বলেও আশ্বস্ত করেছেন রাহুল সিনহা।
