Friday, March 13, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
HomeদেশSantal Row: সাঁওতাল সম্মেলন ঘিরে সংঘাত: রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ থেকে মোদী-মমতা বাকযুদ্ধ, উত্তপ্ত...

Santal Row: সাঁওতাল সম্মেলন ঘিরে সংঘাত: রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ থেকে মোদী-মমতা বাকযুদ্ধ, উত্তপ্ত রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) আয়োজিত একটি সাঁওতাল সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্য রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)-র সফর এবং অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র দোরগোড়ায়। আদিবাসী আবেগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল— এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরগরম দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দ থেকে কলকাতার নবান্ন।

বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে অল ইন্ডিয়া সাঁওতাল কনফারেন্স (All India Santal Conference)। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর। অভিযোগ উঠেছে, শেষ মুহূর্তে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের ভেন্যু বা স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আকস্মিক পরিবর্তনে এবং অব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগতভাবে বেশ অসন্তুষ্ট হয়েছেন। মূলত নিরাপত্তার কারণ এবং প্রটোকল বজায় রাখা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতাই এই অসন্তোষের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি এই ঘটনাকে ভারতের (India) সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের “অপমান” হিসেবে অভিহিত করেছেন। মোদীর মতে, একজন আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল সরকার। তিনি জনসভা থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রপতির কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করছে, যা দেশের ফেডারেল কাঠামোর জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

পাল্টা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের পর চুপ করে বসে থাকেনি পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতি কোনো অসম্মান প্রদর্শন করা হয়নি। বরং লজিস্টিক এবং নিরাপত্তার খাতিরেই কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। মমতার অভিযোগ, বিজেপি (BJP) এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিয়ে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক দখলের চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ছোটখাটো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক আক্রমণ শানাচ্ছেন।

আরো পড়ুন:  মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেই 'শাপমুক্তি'! যাবজ্জীবন কমে ১২ বছর, বম্বে হাই কোর্টের বিরল রায়

সংকটের মূলে কী?

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এই বৃহৎ সম্মেলনে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হওয়ার কথা ছিল। আদিবাসী সমাজ ভারতের রাজনীতিতে একটি বড় ফ্যাক্টর, বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড (Jharkhand), ওড়িশা (Odisha) এবং পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল এলাকায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই বড় নির্বাচন বা রাজনৈতিক সমীকরণ থাকায় কোনো পক্ষই এই ইস্যু হাতছাড়া করতে চাইছে না। একদিকে বিজেপি যেমন নিজেদের আদিবাসী দরদী হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা রাজ্যের অধিকারে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ মানবে না।

প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই বিতর্কের জেরে সাধারণ মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অনেক প্রতিনিধি মনে করছেন, উৎসব বা সম্মেলনকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত ছিল। সরকারি স্তরে বর্তমানে দোষারোপের পালা চললেও, রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে যে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতাকেই প্রকট করে তুলেছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments