Friday, March 13, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিPresident Droupadi Murmu: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দার্জিলিং সফরে প্রোটোকল ভঙ্গ, আগেই সতর্ক...

President Droupadi Murmu: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দার্জিলিং সফরে প্রোটোকল ভঙ্গ, আগেই সতর্ক করেছিলেন জেলা আধিকারিকরা

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সাম্প্রতিক দার্জিলিং (Darjeeling) সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত ৭ মার্চ, শনিবার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে (International Santhal Conference) রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে চরম প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। নিউস্কোপ বাংলার (Newscope Bangla) একজন প্রতিবেদক হিসেবে এই ঘটনার গভীরে গিয়ে যে তথ্য আমরা পাচ্ছি, তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। জানা যাচ্ছে, অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা এবং প্রস্তুতির অভাব নিয়ে খোদ জেলা আধিকারিকরা আগেই তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন।

​ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগেই। শিলিগুড়ির (Siliguri) মহকুমা শাসক (SDO) গত ৪ মার্চ দার্জিলিংয়ের জেলা শাসককে (District Magistrate) একটি চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, অনুষ্ঠানের মাত্র দু’দিন বাকি থাকলেও আয়োজকদের তরফ থেকে ভেন্যুতে কোনো প্রস্তুতিই শুরু হয়নি। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, “ভারতের রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির কারণে এই অনুষ্ঠানের গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা অপরিসীম। ভেন্যু এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পরিদর্শনে দেখা গেছে, আয়োজকরা এখনও কোনো কাজই শুরু করেননি।” মহকুমা শাসক অবিলম্বে আয়োজকদের নির্দেশ দেওয়ার জন্য জেলা শাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।

​এর ঠিক পরেই, ৪ মার্চ তারিখে দার্জিলিংয়ের জেলা শাসক পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সরকারের ওএসডি (OSD) এবং আন্ডার সেক্রেটারিকে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি রাষ্ট্রপতির সফরের প্রোটোকল ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা আয়োজকদের সঙ্গে পর্যালোচনা করার অনুরোধ করেন। জেলা শাসক এমনও প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, যদি আয়োজকরা সঠিক অনুষ্ঠান করতে অক্ষম হন, তবে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের যৌক্তিকতা পুনরায় বিবেচনা করা উচিত এবং বিষয়টি রাষ্ট্রপতির সচিবালয়কে জানানো উচিত।

​রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা সেই চিঠি রাষ্ট্রপতি ভবনের (Rashtrapati Bhavan) প্রোটোকল এবং ট্যুর অফিসারের কাছে পাঠিয়েওছিলেন। কিন্তু শনিবারের অনুষ্ঠানে যে চিত্র দেখা গেল, তা ব্লু বুক (Blue Book)-এর নিয়মকানুনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন (Govind Mohan) এই প্রোটোকল ভঙ্গের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর (Nandini Chakravorty) কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন।

আরো পড়ুন:  Beldanga Case: বেলডাঙা মামলায় ফের NIA আদালতে পেশ করা গেল না ৩৬ অভিযুক্ত, এসকর্ট না দেওয়ার অভিযোগ

​সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গাটি হলো রাষ্ট্রপতির অভ্যর্থনা।

 প্রোটোকল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকতে না পারলে রাষ্ট্রপতির অভ্যর্থনার জন্য একজন ‘মিনিস্টার-ইন-ওয়েটিং’ (Minister-in-Waiting) থাকা বাধ্যতামূলক, যিনি সাধারণত রাজ্য মন্ত্রিসভার একজন প্রবীণ সদস্য হন। কিন্তু শনিবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বা সদ্য পদত্যাগী রাজ্যপাল কেউই উপস্থিত ছিলেন না, এবং কোনো মন্ত্রীকেও রাষ্ট্রপতির অভ্যর্থনার জন্য রাখা হয়নি। শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র গৌতম দেব (Gautam Deb) উপস্থিত থাকলেও ব্লু বুকের নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ‘মিনিস্টার-ইন-ওয়েটিং’-এর মর্যাদা দেওয়া যায় না।

​খোদ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই প্রোটোকল না মানার বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি কোনো জায়গায় গেলে মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদেরও আসা উচিত। কিন্তু তিনি আসেননি…”। এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এই গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওড়িশার (Odisha) মুখ্যমন্ত্রী সহ একাধিক রাজ্যের নেতারা।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments