পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেল। রাজ্যে ভোট ঘোষণা হওয়ার পরপরই প্রশাসন ও পুলিশ স্তরে যে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করে এবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার পাঠানো এই তিন পাতার চিঠিতে তিনি কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলির কড়া সমালোচনা করেছেন এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরপরই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড়সড় পরিবর্তন আনে কমিশন। রাতারাতি বদলি করা হয় রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তাকে। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের এহেন হঠাৎ বদলিতে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার প্রথমে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এরপর সন্ধ্যায় কার্যত একটি ‘পত্রবোমা’ ফাটান তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি লেখা চিঠিতে তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দেন এবং স্পষ্ট জানান যে, কমিশনের এই ধরনের একতরফা কার্যকলাপে তিনি রীতিমতো স্তম্ভিত এবং হতাশ।
চিঠিতে মমতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের আকস্মিক এবং ব্যাপক রদবদলের ফলে রাজ্যের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। তাঁর অভিযোগ, শীর্ষ আধিকারিকদের রাতারাতি সরিয়ে দেওয়ার ফলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজ সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি রূপায়ণে এই শীর্ষ আমলাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার উপর কাজ করেন। নির্বাচনের দোহাই দিয়ে তাঁদের এভাবে আচমকা সরিয়ে দিলে সেই পরিকল্পনাগুলি মাঝপথে মুখ থুবড়ে পড়ে। নতুন আধিকারিকরা দায়িত্ব বুঝে নিতে সময় নিচ্ছেন, যার ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য নেওয়া উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি এবং দৈনন্দিন পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এহেন অসহযোগিতামূলক আচরণ একেবারেই অপ্রত্যাশিত।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের এই টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে এবার যেভাবে প্রশাসনের একেবারে শীর্ষকর্তাদের সরানো হয়েছে, তা কার্যত বেনজির। মমতা তাঁর চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন যে, কমিশনই একপ্রকার রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হতে বাধ্য করেছে। প্রশাসনিক রদবদলের নামে রাজ্য সরকারের ক্ষমতাকে খর্ব করার চেষ্টা চলছে বলেও বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া চিঠি যে ভোটের আগের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন উত্তাপ যোগ করল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে রাজ্য প্রশাসন বদ্ধপরিকর হলেও কমিশনের বাধায় তা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি নবান্নের (Nabanna)।

Recent Comments