তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগের জেরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার (আরও) বদলের প্রক্রিয়া শুরু করল ইলেকশন কমিশন। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইলেকশন কমিশন রাজ্যের ৭৩টি কেন্দ্রে নতুন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করেছিল। সেই তালিকায় ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয় নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের প্রাক্তন বিডিও সুরজিৎ রায়কে। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রেই মুখোমুখি লড়াই হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে।
তবে এই নিয়োগকে ঘিরে তীব্র আপত্তি তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, সুরজিৎ রায় বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তৃণমূলের তরফে দিল্লির ইলেকশন সদন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে দ্রুত এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে সংবেদনশীল কেন্দ্রে অভিজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিক নিয়োগের প্রচলিত নিয়মও মানা হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ইলেকশন কমিশন নিজেদের নির্ধারিত নীতি মেনেই রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক রদবদল করছে এবং এতে রাজনৈতিক প্রভাবের কোনও ভূমিকা নেই।
তৃণমূলের আপত্তির পরেই ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকে সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। নতুন আধিকারিক নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে তিনজন যোগ্য অফিসারের নামের প্যানেল চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই বিতর্কের মধ্যেই গত দু’দিনে রাজ্যের আরও ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার বদল করেছে ইলেকশন কমিশন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি—মোট পাঁচটি কেন্দ্রে এই রদবদল হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই ধারাবাহিক পরিবর্তন রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।


Recent Comments