পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) দামামা প্রায় শেষের দিকে। আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগেই সোমবার শেষবেলার প্রচারে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে মেগা জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । আর সেই সভা থেকেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বঙ্গ জয় নিয়ে পদ্ম শিবির কতটা আত্মবিশ্বাসী। তীব্র দাবদাহকে উপেক্ষা করে মানুষের এই বাঁধভাঙা ভিড় দেখে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা করলেন, আগামী ৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন।
এদিন সকালে জগদ্দলের জিলেবি ময়দানে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সিপাহি বিদ্রোহের অন্যতম সূতিকাগার এই বারাকপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ছুঁয়ে গেলেন মঙ্গল পাণ্ডের আবেগ। তাঁর এই উপস্থিতিতে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে যে প্রবল উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। মোদিকে কাছে পেয়ে বিজেপি প্রার্থীরা তাঁর হাতে মঙ্গল পাণ্ডের একটি ছবিও তুলে দেন।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মোদি। তিনি বলেন, “বাংলার মেজাজ বলছে, এবার পদ্ম ফুটছেই। অঙ্গ, কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গে পদ্ম ফোটার পালা। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, ৪ মে-র পর বিজেপি সরকারের শপথে আমি আসবই। কথা দিয়ে গেলাম।”
টানা এত দিন ধরে এই প্রবল গরমে দেশজুড়ে একের পর এক সভা, রোড শো করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই ক্লান্তিকর রুটিন নিয়েও তাঁর মধ্যে কোনো অবসাদ নেই কেন? সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়েছেন তিনি। মোদির কথায়, “বাংলায় এবার অন্যরকম হাওয়া। এতদিন ধরে এত গরমে প্রচার করছি, এত ভিড়, তবু আমার কোনো ক্লান্তি নেই। কেন জানেন? এখানকার মানুষের এত স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া আমাকে শক্তি জোগায়। সবার মনোভাব বলে দিচ্ছে, এবার বাংলায় পরিবর্তন হচ্ছেই, আর বিজেপি সরকার তৈরি হচ্ছেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এত রোড শো করছি, এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি, আমার কাছে এটা তীর্থযাত্রার মতো পবিত্র।”
আগামী বুধবার রাজ্যের মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। সোমবার বিকেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার পর্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ঠিক তার আগেই প্রধানমন্ত্রীর এই গর্জন বিরোধী শিবিরের ওপর নিঃসন্দেহে এক বড় মানসিক চাপ তৈরি করল। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রচারের একেবারে শেষ লগ্নে এসে মোদির এই ‘প্রবল আত্মবিশ্বাসী’ চেহারা আদতে দলীয় কর্মীদের মনোবলকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিত। রাজ্যের মানুষ সত্যি সত্যি পরিবর্তন চাইছে, নাকি এটা শুধুই রাজনৈতিক বয়ান, তার উত্তর মিলবে মে মাসের শুরুতে। তবে আপাতত, মোদির এই প্রতিশ্রুতি যে বঙ্গ রাজনীতির পারদ আরও কয়েক ডিগ্রি চড়িয়ে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Recent Comments