পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এই দফায় কতগুলি আসন বামেদের ঝুলিতে আসতে পারে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারছে না সিপিএম নেতৃত্ব। গ্রাম বাংলায় সংগঠনকে মজবুত করার দিকে বিশেষ জোর দেওয়া হলেও, সেই প্রচারের সুফল শেষপর্যন্ত ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হবে কি না এবং আগেরবারের শূন্যের গেরো সত্যিই কাটবে কি না, তা নিয়ে আলিমুদ্দিনের অন্দরেই গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
নিউজস্কোপ বাংলার সূত্র অনুযায়ী, প্রথম দফায় রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এর মধ্যে সমগ্র উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলিও রয়েছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছিল ৯২টিতে এবং বিজেপি পেয়েছিল ৫৯টি আসন। বাম-কংগ্রেসের ঝুলি ছিল একেবারেই শূন্য।
তবে গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বামেরা একটি বিধানসভা কেন্দ্রে এবং কংগ্রেস ১১টি কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল, যেগুলির বেশিরভাগই মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে অবস্থিত। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ কংগ্রেস এবার বামেদের সঙ্গে জোটে নেই। তাই বাম শিবিরকে সম্পূর্ণ নিজস্ব শক্তিতেই আলাদাভাবে হিসেব কষতে হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে খবর, এবার প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বাছাই করা নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল সিপিএম। বিশেষ করে, সম্প্রতি ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ রাজ্যের যে যে এলাকার ওপর দিয়ে গিয়েছিল, সেইসব গ্রামগঞ্জের আসনগুলিকে পাখির চোখ করেছিল বাম নেতৃত্ব। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমানের কিছু অংশ এবং মুর্শিদাবাদের কয়েকটি আসনকে ‘এ প্লাস’ ক্যাটেগরিতে রেখে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছিলেন দলের নেতা-কর্মীরা। আইএসএফের সমর্থনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কিছু এলাকায় ভালো ফলের একটা ক্ষীণ আশা দেখছেন তাঁরা। পাশাপাশি, আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের দিকেও নজর রয়েছে দলের। হুগলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, যাদবপুর, দমদম, কামারহাটি, পানিহাটি ও উত্তরপাড়ার মতো কেন্দ্রগুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে আলিমুদ্দিন।
সব মিলিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি আসনকে বিশেষ নজরে রেখেছিল বাম নেতৃত্ব। সেই অনুযায়ী প্রচার ও সভা-মিছিলেও জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রথম দফার ভোট মিটে যাওয়ার পর আসল বাস্তবচিত্রটা ঠিক কেমন, তা বুঝতে একেবারে নিচুতলার শাখাস্তর থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
বুথভিত্তিক সেই প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পর সিপিএমের অন্দরমহলে হতাশার মেঘ কিছুটা হলেও ঘনীভূত হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছিল, ভোটের হার এবার অনেকটাই বাড়বে এবং কিছু আসনে আশানুরূপ ফল মিলবে। কিন্তু যেটুকু তথ্য এখনও পর্যন্ত জমা পড়েছে, তাতে গতবারের মতো শূন্যের গেরো যে নিশ্চিতভাবে কাটছেই, এমন ভরসা জোগাতে পারছেন না নেতারা। বরং, বহু আসনে মূল লড়াই যে সেই শাসকদল বনাম গেরুয়া শিবিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, তা কার্যত স্পষ্ট। এখন দেখার, বামেদের এই দীর্ঘ লড়াই এবং বুথভিত্তিক রণকৌশল শেষপর্যন্ত তাদের বিধানসভায় খাতা খুলতে সাহায্য করে, নাকি বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে তাদের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়?

Recent Comments