অশোক সেনগুপ্ত
হকার সংগ্রাম কমিটির সর্বোময় কর্তা শক্তিমান ঘোষ বুধবারের নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আবেদন করেছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
ইউনাইটেড কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়ার তরফে শক্তিমান লিখেছেন, “আমি UCPI এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে বলছি……… পশ্চিমবঙ্গের দুজন সম্পাদক মুরাদ হোসেন ও উজ্জ্বল সেনগুপ্ত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছ তা হলো… ফ্যাসিস্ট“ বিজেপিকে বাংলায় রুখতে পারে একমাত্র মমতার নেতৃত্বে TMC। তাই বাংলায় সব জায়গায় ভোট দিতে হবে TMC কে। এই সিদ্ধান্তকে আমি সমর্থন করলাম।”
প্রতিক্ষণে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতায় মুখর সিপিএম শিক্ষাবিদ মহালয়া চ্যাটার্জি প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্ন করেছেন, “UCPI-র সদস্য কতজন?” তাঁকে পার্থ সেনগুপ্ত জবাব দিয়েছেন, “প্রত্যেকের বুকে রয়েছে এক একজন মার্ক্স, লেনিন, হো চি মিন, চে গুয়েভারা আর ফিদেল কাস্ত্রো। আমরাই সেই দুনিয়া কাঁপানো দশজন।”
অপর একটি পোস্টে পার্থবাবু লিখেছেন, “মেকি কমিউনিস্টদের ধান্দাবাজি দেখতে দেখতে যখন হতাশ হচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময় সাচ্চা কমিউনিস্টের মতো তোমার বা তোমাদের কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম। তাই তোমাদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই……
ফ্যাসিজিম নিপাত যাক।
বাংলা তথা দেশের শত্রু বিজেপি নিপাত যাক।
মেকি বামপন্থা নিপাত যাক।
কমরেড এস এ ডাঙ্গে জিন্দাবাদ।
জয় বাংলা।”
বাসুদেব নস্কর লিখেছেন, “আপনি UCPI আপনি AITUC আপনি বামপন্থী, আপনি বতমানে TMC পরদার পিছনে। বাকি থাকলো একটাই পার্টি BJP, সেটা হতে কয়েকটা দিন অপেক্ষা মাত্র। এগিয়ে চলো কমরেড। ভগবানের কাছে আপনার অমরত্ব কামনা করি। আমাদের দেখা, শেখার,জানার অনেক বাকি। আছে।”
আবার, শক্তিমানের সমর্থনে দেবলীনা মজুমদার লিখেছেন, “চন্দ্রকোনা এলাকাতেই আমার স্কুল। প্রতিনিয়ত স্কুল যাতায়াতের সুবাদে স্থানীয় মানুষদের মুখে শুনছি আমার দাদামশাই (সত্য ঘোষালের) একজন অত্যন্ত স্নেহধন্য নেতা প্রকাশ্যে সি পি এমের মিটিং, মিছিল করছেন। সাধারণ মানুষ আমাকেই প্রশ্ন করছেন আমার দাদামশাই শেষ জীবনে সি পি এম হয়ে গিয়েছিলেন কিনা! এনারা চান সি পি এম ক্ষমতায় না এলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলে যান! তাতে অন্য কেউ আসুক! আমাদের কিছু মানুষ মনে হয় আ্যলঝাইমার্স আক্রান্ত কারণ সত্য ঘোষাল, কৃষ্ণ কারক যা বললেন তার বিপরীত করতে শুরু করলেন… কেন?
প্রসঙ্গত, শহরজুড়ে, বিশেষত এসপ্লানেড অঞ্চলে থিকথিক হকারের ফলে পথচারীদের এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে হাইকোর্টে। কলকাতা পুলিশ, পুরসভা সহ রাজ্য-নিয়ন্ত্রিত কিছু সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি হলেও হকার সরানো যায়নি। এই অবস্থায় শক্তিমানদের আশা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটের মুখে সমর্থনের বার্তা দিলে পরে তিনি ভোটে জিতে হকারদের প্রতি নমনীয় মনোভাব নেবেন।


Recent Comments