back to top
Tuesday, May 5, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিবিধ“কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজ্ঞান চর্চা মোটেই উপেক্ষিত নয়”— ডঃ জয়ন্ত স্থানপতি

“কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজ্ঞান চর্চা মোটেই উপেক্ষিত নয়”— ডঃ জয়ন্ত স্থানপতি

অশোক সেনগুপ্ত

কলকাতার গর্ব বিড়লা শিল্প ও কারিগরী সংগ্রহশালা। ২ মে ছিল সেটির ৬৭-তম জন্মদিন। ভারত-বিখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানের বিকাশের অন্যতম প্রধান পুরোধা ডঃ জয়ন্ত স্থানপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী
ডঃ জয়ন্ত স্থানপতির সাক্ষাৎকার।

১) প্রশ্ন—বিআইটিএম-এর আদিপর্বে আপনি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কতদিন, কিভাবে যুক্ত ছিলেন? ইতিবাচক কোন কাজগুলো আজও মনে আছে?


উত্তর— আমি ১৯৭৮ সালে, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামস-এর গঠনের কয়েক মাস পর, বিড়লা ইনডাস্ট্রিয়াল এন্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম-এ একজন এন্ট্রি-লেভেল কিউরেটর হিসেবে যোগ দিই। সেই সময়, BITM ছিল কাউন্সিলের তিনটি জাতীয় পর্যায়ের ইউনিটের একটি। সৌভাগ্যবশত:, কৰ্মজীবনের শুরুতেই, আমি ভারতীয় বিজ্ঞান মিউজিয়াম আন্দোলনের তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব: অমলেন্দু বোস, সরোজ ঘোষ এবং সমর বাগচীর অধীনে কাজ করার সুযোগ পাই। BITM-এ চার বছর কাজ করার পর, আমাকে NCSM-এ নিয়ে যাওয়া হয় এবং আরও চার বছর সেখানে, সরাসরি সরোজ ঘোষের অধীনে কাজ করি। ঐ সময়ে আমি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলাম: BITM-এ ‘ATOM’ গ্যালারি তৈরি, এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী “ইন্ডিয়া – এ ফেস্টিভাল অফ সায়েন্স”-এর জেনারেল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব নেয়া। প্রদর্শনীটি দুই বছর ধরে আমেরিকার ছয়টি শহরে প্রদর্শিত হয়।

২) প্রশ্ন— বিআইটিএম-এ কাজের আগে এবং পড়ে আপনি কোথায়, কতদিন, কী ধরণের দায়িত্ব ফালনের সুযোগ পেয়েছেন?


উত্তর— আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি ও এমএসসি করেছি। পড়াশোনার পাশাপাশি, আমি বৈজ্ঞানিক মডেল তৈরির কার্যক্রমে যুক্ত ছিলাম এবং এজন্য জগদীশ বসু ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ (JBNSTS) থেকে দু’বার ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দু’বার পুরস্কৃত হয়েছি। এই সাফল্য আমাকে গবেষণা জীবনের পরে বিজ্ঞান মিউজিয়াম-এর পেশা অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

৩) প্রশ্ন—একসময় কলকাতা ছিল দেশে বিজ্ঞানচর্চার মূল কেন্দ্র। এখন এদিক থেকে দেশের ভরকেন্দ্র কোন শহরে হয়েছে? কলকাতার অবস্থানটা কত নম্বরে? এই অবনমনের মূল কারণ কী, কী বলে আপনার ধারণা?

আরো পড়ুন:  বসন্তের রঙে মিশুক না বিষ: ভেষজ আবিরেই হোক নিরাপদ দোল উৎসব


উত্তর— আমার মতে আজকের দিনে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজ্ঞান চর্চা মোটেই উপেক্ষিত নয়। ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন ফর দি কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স এই বছর সার্ধ শত বর্ষ উদযাপন করতে চলেছে। আধুনিক বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠানটির অবদান ঊর্ধ্বমুখী। পশ্চিমবঙ্গে আরো অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অনবদ্য কাজ করে চলেছেন। এই বিজ্ঞানীরা প্রচার বিমুখ তাই হয়তো আমরা সব খবর জানতে পারিনা।

৪) প্রশ্ন— আপনি যখন পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়তেন, বিষয়টার যথেষ্ঠ চাহিদা ছিল। এখন নতুন নতুন বিষয় চলে এসেছে। পদার্থবিদ্যার চাহিদা সত্যি কতটা আছে বলে আপনি মনে করেন?


উত্তর— হ্যাঁ, ২০২৬ সালেও পদার্থবিজ্ঞান ততটাই গুরুত্বপূর্ণ যতটা আগেও ছিল। পদার্থবিজ্ঞান সবচেয়ে মৌলিক বিজ্ঞান। এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কিভাবে আজকের বিশ্বের সবকিছু কাজ করে — ছোট কণিকা থেকে শুরু করে বিশাল-গ্যালাক্সি পর্যন্ত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইলেকট্রনিক্স, নতুন উপকরণ, শক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু বিজ্ঞান এবং মহাকাশ অনুসন্ধানের মতো ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞান জরুরি। এসব ক্ষেত্রের ভিত্তি হলো পদার্থবিজ্ঞান।

৫) প্রশ্ন— আপনি কোন সালে পিএইচডি করেছিলেন? কোথা থেকে? বিষয় কী ছিল?


উত্তর— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করার পর, আমি ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স-এ রিসার্চ ফেলো হিসেবে সলিড স্টেট ফিজিক্স-এ গবেষণার কাজ করেছি। কিন্তু, ১৯৭৮ সালে BITM-এ যোগদানের পর আমার থিসিস লিখতে দেরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৮৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি পাই। প্রায় তিন দশক পরে, ২০১৩ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে আরেকটি পিএইচডি ডিগ্রি পাই, আমার থিসিস ছিল ‘চৌম্বকীয় রেজোন্যান্স গবেষণার উপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব’ নিয়ে।

৬) প্রশ্ন— শৈশবে দেখতাম পাড়ার মেলাতেও বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তুলতে নানা মডেল নিয়ে প্রদর্শনী করছেন। পরবর্তীকালে আপনার ওই বিজ্ঞানক্ষুধা কিভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল?


উত্তর— BITM এবং NCSM-এ কাজ করার পর, আমি ভুবনেশ্বরে যাই। সেখানে আট বছর কাজ করি এবং রিজিওনাল সায়েন্স সেন্টার, ভুবনেশ্বর ও ঢেনকানল সায়েন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা করি। এরপর আমি ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার, নয়াদিল্লিতে সিনিয়র কিউরেটর হিসাবে চার বছর কাজ করি। দিল্লিতে একটি সায়েন্স পার্ক তৈরি করি। ১৯৯৮ সালে আমি NCSM সদর দপ্তরের ডিরেক্টর হই। ছয় বছর সেই পদে ছিলাম। পরের চার বছর আমি BITM-এর ডিরেক্টর ছিলাম। অবসরের আগে শেষ তিন বছর NCSM-এ ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে কাজ করি। আমার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত সায়েন্স সেন্টার গুলি আছে কুরুক্ষেত্র (হরিয়ানা), আইজল (মিজোরাম), ডিমাপুর (নাগাল্যান্ড), ইম্ফল (মণিপুর) এবং গ্যাংটক (সিকিম)-এ।

আরো পড়ুন:  Clash over Ram Navami procession: রামনবমীর মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্র জঙ্গিপুর, দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, একাধিক দোকানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ; নামল পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী

৭) প্রশ্ন— অবসরের পরে?


উত্তর— আমি তিন বছর নয়াদিল্লির ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমির (INSA) প্রজেক্ট ইনভেস্টিগেটর হিসেবে “ভারতে বিজ্ঞান মিউজিয়াম ও প্ল্যানেটারিয়ামের ইতিহাস” লিখি। এসব বিষয়ে আমার পঞ্চাশটিরও বেশি প্রকাশনা রয়েছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments