রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী র নাম ঘোষণার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। শপথ গ্রহণের আগেই রাজনৈতিক বার্তা দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল বিজেপি। শুক্রবার শিলিগুড়ির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশ ঘোষ কলোনিতে মাছ-ভাত খাওয়ানোর আয়োজন করে বিজেপির ১ নম্বর মণ্ডল এরিয়া কমিটি।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বারবার প্রচার করা হয়েছিল যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির উপর হস্তক্ষেপ করা হবে এবং মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই অভিযোগকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলেই দাবি গেরুয়া শিবিরের। আর সেই বার্তাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই মাছ-ভাতের আয়োজন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।এদিন এলাকার বহু বাসিন্দা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উৎসবের আবহে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক আলোচনা ও আড্ডাতেও মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। বিজেপির ১ নম্বর মণ্ডল এরিয়া কমিটির সভাপতি অনুপ শ্রীবাস্তব বলেন, “মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল। বিজেপি কখনওই কারও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করে না। বাংলায় মাছ-ভাত যেমন ছিল, তেমনই থাকবে।”তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েই আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় নতুন সরকার। তাঁর কথায়, -শুভেন্দু অধিকারি র নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলেই মানুষ আশাবাদী।”স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এই ধরনের কর্মসূচি সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের দূরত্ব কমাতে সাহায্য করে। খাবারের মাধ্যমে দেওয়া এই প্রতীকী বার্তা ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Recent Comments