back to top
Saturday, June 27, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিনোদননন্দিতা-শিবপ্রসাদের ছবিতে মালদার গম্ভীরা, আলোচনায় বাবলু মণ্ডল

নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ছবিতে মালদার গম্ভীরা, আলোচনায় বাবলু মণ্ডল

মালদার মাটির গন্ধ এবার পৌঁছে যাচ্ছে রুপোলি পর্দায়। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর নতুন ছবি বহুরূপী-২-এ জায়গা করে নিল মালদার ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা। আর সেই গর্বের কেন্দ্রে রয়েছেন ইংরেজবাজারের ফতেপুর গ্রামের গম্ভীরা শিল্পী তথা নবভরতীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষক বাবলু মণ্ডল, যিনি সকলের কাছে পরিচিত ‘বাবলু গম্ভীরা’ নামে।

জানা গিয়েছে, ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি বাবলু গম্ভীরার লেখা একটি গম্ভীরা গানও ব্যবহার করা হচ্ছে। গানটিতে কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি নিজেই। শুধু তাই নয়, তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘ফতেপুর গম্ভীরা দল’-ও ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। খুব শীঘ্রই মালদার বিভিন্ন লোকেশনে ছবির শুটিং শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। ফতেপুর গ্রাম ও নবভরতীয়া উচ্চ বিদ্যালয়েও শুটিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিচালকদ্বয়ের মতে, বাংলার লোকসংস্কৃতির শিকড়কে আরও বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরতেই গম্ভীরাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কথায়, “বাবলুদার গলায় ও লেখায় যে মাটির টান আছে, তা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে।”উল্লেখ্য, এর আগেও বাবলু গম্ভীরার হাত ধরেই মালদার গম্ভীরা আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে যায়। সম্প্রতি ইতালি থেকে আসা এক গবেষক দল ফতেপুরে এসে গম্ভীরা, মুখোশ নাচ ও ভক্ত নাচ নিয়ে গবেষণা করেন। গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন আলেসান্দো সিমোনেন্ডি। তাঁরা গম্ভীরার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ ও ক্যামেরাবন্দি করেন।

গবেষকদের মতে, ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি হল গম্ভীরা, যা একদিন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।গত বছর ফতেপুরে গড়ে উঠেছে ‘গম্ভীরা সংরক্ষণশালা ও একাডেমি’। প্রায় দশ কাঠা জমির উপর বাবলু মণ্ডলের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি এই সংগ্রহশালা ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের গবেষকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।পেশায় শিক্ষক হলেও গম্ভীরাই তাঁর নেশা। দীর্ঘদিন ধরে মালদার এই লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন বাবলু গম্ভীরা। সামাজিক বার্তা, ভোট সচেতনতা থেকে শুরু করে সমাজের নানা বিষয় তাঁর গানের মাধ্যমে উঠে আসে মানুষের সামনে।

আরো পড়ুন:  উদ্বেগ বাড়ছে সংগীত জগতে! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি 'সুরসম্রাজ্ঞী' আশা ভোঁসলে

এই প্রসঙ্গে বাবলু গম্ভীরা বলেন, “স্কুলে পড়াই, আর অবসরে গম্ভীরা চর্চা করি। কখনও ভাবিনি বড় পর্দায় কাজ করার সুযোগ পাব। নন্দিতাদি ও শিবুদা মালদার সংস্কৃতিকে সম্মান দিয়েছেন। এটা শুধু আমার নয়, গোটা মালদার গর্ব।”উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বহুরূপী বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। তারই সিক্যুয়েল বহুরূপী-২ ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে বাড়ছে উন্মাদনা। আর সেই ছবিতে মালদার গম্ভীরার অন্তর্ভুক্তি জেলার সংস্কৃতিপ্রেমীদের কাছে নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments