ভোটের উত্তাপে ফুটছে রাজ্য রাজনীতি। প্রচারের ব্যস্ততায় নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের চেনা ভিটে আর চেনা মানুষদের ভুলে যাননি তিনি। সোমবার সকালে কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জ’-তে ধরা পড়ল এক অন্যরকম ছবি।
মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসভবনে ভিড় জমালেন পাড়া-প্রতিবেশীরা।দীর্ঘদিন পর ঘরের ছেলেকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন সকালে শুভেন্দু অধিকারী যখন শান্তিকুঞ্জে ছিলেন, তখন খবর পেয়েই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন প্রতিবেশীদের একটি বড় অংশ। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে আবালবৃদ্ধবনিতা ভিড় করেন অধিকারীদের বাড়ির দোরগোড়ায়।
বিরোধী দলনেতাও এদিন তাঁর পাড়ার লোকেদের নিরাশ করেননি। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মাঝেই তিনি হাসিমুখে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীদের দিকে। কারও সঙ্গে হাত মেলান, কারও কুশল সংবাদ নেন। পাড়ার বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতেও দেখা যায় তাঁকে। শুধু কথা বলাই নয়, এলাকার যুবক-যুবতীদের আবদারে তাঁদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন শুভেন্দু।প্রতিবেশীদের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারী এখন রাজ্যের বড় নেতা হতে পারেন, কিন্তু তাঁদের কাছে তিনি এখনও সেই পুরনো ‘শুভেন্দু’।
পাড়ার যে কোনও প্রয়োজনে বা উৎসবে তাঁকে পাশে পাওয়া যায়। এদিন ঘরের ছেলেকে সামনে পেয়ে নিজেদের অভাব-অভিযোগের কথা জানানোর পাশাপাশি তাঁর সাফল্য কামনা করেন প্রতিবেশীরা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজের গড়ে এই জনসংযোগ শুভেন্দুর জন্য যথেষ্ট ইতিবাচক। একদিকে যখন রাজনৈতিক ময়দানে তিনি শাসকদলের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় তোপ দাগছেন, তখন নিজের পাড়ায় এই ‘জনপ্রিয়তা’ তাঁর ব্যক্তি ইমেজে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে।
শান্তিকুঞ্জের অন্দরমহলে এদিন রাজনীতির চেয়েও বেশি প্রাধান্য পেয়েছে পাড়ার সেই চেনা আন্তরিকতা।এদিন বেশ কিছুক্ষণ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ফের নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিরোধী দলনেতা। তবে শান্তিকুঞ্জের সামনে জড়ো হওয়া মানুষের ভিড় আর তাঁদের চোখের উজ্জ্বলতা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কাঁথির মাটিতে শুভেন্দু অধিকারীর শিকড় কতটা গভীর।


Recent Comments