টাকা দিয়ে নানা ক্লাবের ছেলেদের তৃণমূল পকেটে ভরে রাখত বলে অভিযোগ উঠছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কী বললেন সন্তোষপুর ত্রিকোণ পার্ক সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় (বুলা)?
অশোক সেনগুপ্ত
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমলে ছোট ক্লাব গুলোর ভালোই হবে, ক্ষতি হবে নেতা মন্ত্রীদের পুজোর
১) অনেকের দাবি, ক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতার নামে মাননীয়া মাস্তান পুষতেন। দাবিটা আদৌ ঠিক? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি কী?
উত্তর— এটা আংশিক সত্য কথা, এই অনুদানে ক্লাব গুলোর বিশেষ কোন উপকার হয়নি, এই অনুদান দিয়ে সরকারী টাকার অপচয় করা হয়েছিল বলে আমি অন্তত মনে করি। এই অনুদান যে সমস্ত ক্লাব দু’তিন কিস্তি পেয়েছে, তাদের বেশিরভাগই এই টাকা নিয়ে অপব্যবহার করেছে।
মাননীয়ার সঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল বলতে পারবো না। কিন্ত, অঞ্চলের স্থানীয় স্তরের নেতৃত্ব এই অনুদানের টাকা নিজেদের সংকীর্ণ স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার এবং নয় ছয় করতো। স্থানীয় নেতৃত্ব এটা মাস্তান পোষার কাজেই ব্যবহার করত বলে, আমি মনে করি। সরকারের সঠিক পর্যবেক্ষণের অভাবে সরকারী এই প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা সম্পূর্ণ বিপথে ব্যবহৃত হয়েছিল।
২) বিজেপি-র কি পুজো-অনুদান প্রত্যাহার করে সেই অর্থ উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো উচিত?
উত্তর- বিজেপি তো ধর্মের রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে অনেক রকম অনুদান ঘোষনা করেছে। শুধুমাত্র পূজোর সামান্য অনুদান প্রত্যাহার করে দেশের আর কত উন্নয়ন করতে পারবে? পূজোর অনুদান বন্ধের আমরা বিপক্ষে।
৩) রাজনৈতিক এই পালাবদলে কি পুজো উদ্যোক্তারা কিছু ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন? হ্যাঁ হলে, ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে, কেন?
উত্তর— দেখুন, কলকাতার গোটা কুড়ি নেতা মন্ত্রীদের পুজো ছাড়া, বেশিরভাগ পুজো কমিটির কোন অসুবিধা হবে না। এইসব নেতা নেত্রীরা অনৈতিক ভাবে উপার্জিত টাকা পয়সা নিজেদের পুজোয় খরচ করে। ফলে কলকাতার ছোট ও মাঝারি পূজো কমিটি গুলোর মধ্যে দুর্গাপুজো নিয়ে একটা অসম প্রতিযোগিতা চলে। ফলে পূজো কমিটিগুলোর শিল্পসত্ত্বাও সংকটের মধ্যে পরে। টাকার অসম প্রতিযোগিতার জন্য ছোট ছোট ক্লাবের ছোট অনামী প্রতিভাবান শিল্পী রা তাদের প্রকৃত প্রতিভার সঠিক বিকাশ ঘটাতে ব্যর্থ হয়।
বড় পূজো কমিটিগুলো টাকার জোড়ে প্রতিভাবান শিল্পীদের বা অনামী ক্লাবের ভালো কাজকে পেছনে ফেলে দেয়। টাকার জোরে নেতা মন্ত্রীদের পূজো গুলো মানুষের সামনে চলে আসে। নেতা নেত্রীদের হস্তক্ষেপ না থাকলে কলকাতার পুজোর ভালোই হবে।


Recent Comments