নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে শুভেন্দু অধিকারীর। জেলার পর জেলা প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও সামলাচ্ছেন তিনি। সেই ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেই বৃহস্পতিবার দিনের সূচনা করলেন আধ্যাত্মিক আবহে। হাওড়া ও দুর্গাপুরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের আগে তিনি পৌঁছে যান বেলুড় মঠে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসীরা। মঠে প্রবেশের সময় শুভেন্দুকে দেখা যায় জোড় হাতে উপস্থিত ভক্ত, দর্শনার্থী ও আশ্রমিকদের অভিবাদন গ্রহণ করতে। আধ্যাত্মিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি হাঁটু গেড়ে প্রণাম করে মঠ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন, যা উপস্থিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এরপর তিনি প্রথমে শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দিরে গিয়ে পূজা ও প্রার্থনায় অংশ নেন। মন্দিরে কিছুক্ষণ ধ্যানমগ্ন অবস্থায় সময় কাটানোর পাশাপাশি আরতি দর্শন করেন। পরে স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কক্ষে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একে একে স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির এবং শ্রীশ্রী মা সারদাদেবীর মন্দিরেও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে প্রণাম জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব ছিল রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রেসিডেন্ট মহারাজ স্বামী গৌতমানন্দজির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ। অশীতিপর এই সন্ন্যাসীর কক্ষে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন এবং আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ একান্তে আলাপচারিতাও হয় বলে মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, এ সময় প্রেসিডেন্ট মহারাজের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যের শান্তি, উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণ সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতোই আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় এলেই বেলুড় মঠে গিয়ে সাধু-সন্ন্যাসীদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও শুভেন্দুর এই সফর সেই ধারারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।
বেলুড় মঠের শান্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে কিছুটা সময় কাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রওনা দেন হাওড়ার শরৎ সদনের উদ্দেশে। সেখানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন তিনি। হাওড়ার বৈঠক শেষে দুর্গাপুরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও আধ্যাত্মিকতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং বেলুড় মঠে তাঁর এই সফর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম বেলুড় মঠ সফর, যা দিনভর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

Recent Comments