back to top
Monday, May 25, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
HomeCrime and Accidentচোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় হাসপাতালের চার তলা থেকে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, ঘনীভূত...

চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় হাসপাতালের চার তলা থেকে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

রোগীদের ভিড়, চিকিৎসক ও নার্সদের নিত্যদিনের দৌড়ঝাঁপ— আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই চারপাশের পরিবেশ ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেই হঠাৎ করে শোনা গেল ভারী কিছু একটা নিচে আছড়ে পড়ার তীব্র শব্দ। আর তারপরেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল সীমাহীন আতঙ্ক ও আর্তনাদ। রায়গঞ্জের একটি নামী সরকারি হাসপাতালের (Hospital) চার তলা থেকে সটান নিচে পড়ে গেলেন এক যুবক (Youth)।

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই যুবকের চোখে বাঁধা ছিল মোটা ব্যান্ডেজ। আর এই একটি বিষয় ঘিরেই এখন দানা বেঁধেছে তীব্র রহস্য। ঘটনাটি কি নেহাতই কোনো দুর্ঘটনা (Accident), নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে আত্মহত্যার (Suicide) কোনো সুপরিকল্পিত ছক? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে পুলিশ (Police)।কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা?

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার সময় বিল্ডিংয়ের নিচে বেশ কয়েকজন রোগীর আত্মীয় ও সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ ওপর থেকে কিছু একটা নিচে পড়ার শব্দে চমকে ওঠেন তারা। ছুটে গিয়ে দেখেন, রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ, আর সেখানে নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক ব্যক্তি। দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল প্রশাসন (Administration) প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে যে, ওই যুবক চোখের কোনো গুরুতর সমস্যার কারণে ভর্তি ছিলেন। সম্ভবত তাঁর চোখে কোনো জটিল অস্ত্রোপচার বা সার্জারি (Surgery) হয়েছিল, যার কারণে তাঁর দুটি চোখেই মোটা করে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠছে, একজন মানুষ যাঁর দুই চোখ পুরোপুরি ঢাকা, তিনি কীভাবে চার তলার জানলা বা ব্যালকনি পর্যন্ত পৌঁছলেন? তাঁকে তো পদে পদে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হওয়ার কথা!দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা? কী বলছে পুলিশ?

তদন্তকারী আধিকারিকরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন।

তাঁরা মূলত দুটি দিক নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছেন:

আরো পড়ুন:  Massive fire in a moving lorry: মোথাবাড়িতে চলন্ত চালবোঝাই লরিতে ভয়াবহ আগুন, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চালক ও খালাসি

দুর্ঘটনার তত্ত্ব:

হতে পারে ওই যুবক নিজের বেড থেকে উঠে শৌচালয়ে বা অন্য কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। চোখে দেখতে না পাওয়ার কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে তিনি জানালা বা রেলিংয়ের ফাঁক গলে নিচে পড়ে যান।

মানসিক অবসাদ ও আত্মহত্যা:

চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গে বড় কোনো আঘাত বা চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ভয়ে রোগীরা অনেক সময় চরম মানসিক অবসাদে (Depression) ভোগেন। ওই যুবকের মনেও কি এমন কোনো গভীর হতাশা বাসা বেঁধেছিল, যার কারণে তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন?এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তকারীরা মৃতের পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন।

তাঁর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তিনি সম্প্রতি কোনো হতাশাজনক কথা বলেছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।প্রশ্নের মুখে হাসপাতালের নজরদারিযদি এটি দুর্ঘটনা হয়ে থাকে, তবে নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হচ্ছে। একজন দৃষ্টিহীন প্রায় রোগীকে কেন একা ছেড়ে দেওয়া হলো? কোথায় ছিলেন সেই সময় ডিউটিতে থাকা নার্স বা ওয়ার্ড বয়রা? ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে। সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হবে যে, যুবকটি একা হেঁটে বারান্দার দিকে গিয়েছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন।

পাশাপাশি, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য পাঠানো হয়েছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments