শনিবার সকালে হঠাৎ করেই তিলোত্তমায় হাই প্রোফাইল অতিথির আগমন। সপ্তাহান্তের শুরুতেই সস্ত্রীক কলকাতা (Kolkata) বিমানবন্দরে পা রাখলেন খোদ আমেরিকা (America)-র বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো (Marco Rubio)। এই বিশেষ সফর ঘিরে সকাল থেকেই শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ আধিকারিকের আগমন ঘিরে চরম ব্যস্ততা দেখা যায় প্রশাসনিক ও পুলিশি স্তরে। সাধারণত এই ধরনের উচ্চপদস্থ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের সফর মূলত দেশের রাজধানী কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। কিন্তু এবার রুটিনে সামান্য বদল এনে সোজা বাংলার মাটিতে পা রাখলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রীও। বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তাঁর বিশেষ কনভয় সোজা রওনা দেয় শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত তালতলা (Taltala) এলাকার দিকে। গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক এবং আবেগজড়িত মাদার হাউস (Mother House)। শহরের আর পাঁচটা দর্শনীয় জায়গার বদলে কেন তিনি প্রথমেই এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদার টেরিজার প্রতি বিশ্বজুড়ে যে অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে, সেই মানবিক দিকটিকে ছুঁয়ে দেখতেই মার্কিন বিদেশসচিবের এই পদক্ষেপ। সেখানে গিয়ে তিনি বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান। জানা গিয়েছে, আবাসিক এবং সিস্টারদের সঙ্গে তিনি সৌজন্যমূলক কথাবার্তাও বলেন। শান্ত, সমাহিত পরিবেশে কিছুক্ষণ কাটিয়ে তিনি মাদারের সমাধির সামনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এই পুরো সময়টা তাঁর স্ত্রী তাঁর পাশেই ছিলেন এবং তিনিও সমানভাবে এই ঐতিহাসিক স্থানের শান্ত পরিবেশ গভীরভাবে উপভোগ করেন।
মাদার হাউস থেকে বেরিয়ে এদিন দুপুরেই তাঁর রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লি (Delhi)-র উদ্দেশে। নিউজস্কোপ বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে এই সফর কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যাচ্ছে, কূটনৈতিক দিক থেকে এই ঝটিকা সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মনে করা হচ্ছে, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এবং আগামী দিনের নানা আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই সফর একটি অনুঘটকের কাজ করবে। দিল্লিতে পৌঁছে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হাই-প্রোফাইল বৈঠকে অংশ নিতে পারেন বলে খবর। ভারতের শীর্ষ স্তরের নেতামন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে মূলত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত কথা হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যখন বিশ্বের নানা প্রান্তে অস্থিরতা চলছে, ঠিক সেই সময়ে ভারতের মতো শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং মতবিনিময় অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দুই দেশেরই সমান দায়িত্ব রয়েছে।


Recent Comments